বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮, ১২:১০:৫৫

মাওরিস জাতির ভয়ংকর ইতিহাস

মাওরিস জাতির ভয়ংকর ইতিহাস

ঢাকা : বড় অদ্ভূত এই পৃথিবী। অদ্ভূত তার মানুষগুলো। এই পৃথিবী যতটা না বৈচিত্র্যময় তারচেয়েও বড় বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীর মানুষগুলো। আজকের মানব সভ্যতা যে ভীতের উপর দাঁড়িয়ে আছে তার পেছনে অনেক কালো ইতিহাস রয়েছে।

কালে কালে দেখা মিলেছে হাজারো জাতিগোষ্ঠীর, যাদের পোশাক, খাওয়া-দাওয়া, জীবনযাত্রা সবই ছিলো বৈচিত্র্যময়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমনও কিছু জাতিগোষ্ঠী ছিলো যাদের গল্প শুনলে আমরা শিউরে উঠি।

আজ শুনবো তেমনি একটি জাতির গল্প। যারা এতটাই ভয়ংকর ছিলো যে মানুষকে হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়ার উৎসবে মেতে উঠতো। বলছিলাম পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর জাতি মাওরিসদের কথা।

নিউজিল্যান্ডের পলিনেশিয়ান আদিবাসী হল এই মাওরিস (The Maoris)। নিউজিল্যান্ডের প্রথম আদিবাসি বা বাসিন্দা হিসেবে এরা বেশ আক্রমনাত্মক ছিল।

অনুপ্রবেশকারীদের এরা হত্যা করতে দ্বিধা বোধ করত না, এই হত্যাযজ্ঞ তারা চালু রেখেছিল ১৮শ শতক পর্যন্ত। এই হত্যা কিন্তু শুধু হত্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এরা অনুপ্রবেশকারীদের হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়ার উৎসবে মেতে উঠত।

হ্যাঁ সত্যি তারা মানুষকে হত্যা করে তাদের মাংস খেত। শত্রুর মাংস খেলে তারা নাকি আরও বেশি শক্তিশালী হবে, যুদ্ধের কৌশলও বৃদ্ধি পাবে-এমনটাই বিশ্বাস ছিলো তাদের।

১৮০৯ সালে আসা প্রথম ইউরোপের জাহাজে মাওরিসরা আক্রমণ করে বসে। কারণ ছিল সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানরা মাওরিস জাতির প্রধানের বড় ছেলেকে অপমান করে বসে। আর এই অপমানের বদলা নিতে মাওরিস জাতির যোদ্ধারা জাহাজের প্রায় ৬৬ জন নাবিকের উপর হামলা করে।

হামলা করে তারা মৃত এবং অর্ধমৃত নাবিকদের ধরে নিয়ে যায়। এসময় বেঁচে যাওয়া কয়েকজন নাবিক যারা জাহাজের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল তারা দেখতে পায় যে তাদের সঙ্গীদের সমুদ্র পাড়ে পুরিয়ে তাদের মাংস দিয়ে উৎসব করা হচ্ছে। পরবর্তিতে তারা কোন এক উপায়ে নিজ দেশে ফিরে এই কথা জানান।

১৮শ শতকের পর মাওরিসদের অন্যতম পরিবর্তন দেখা যায়। ইউরোপিয়ানরা ক্রমাগত নিউজিল্যান্ডে  আসায় মাওরিসদের জীবন যাত্রা পরিবর্তন হতে শুরু করে। তারা ওয়েস্ট্রান সভ্যতা ও সংষ্কৃতি গ্রহণ করতে শুরু করে, ফলে ধীরেধীরে বন্ধ হতে থাকে নৃশংস  হত্যাযজ্ঞ।

এর মধ্যে আবার দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে তাদের মৃত্যু ঘটতে থাকে ফলে জনসংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকে। তবে ২০শ শতকে তাদের সংখ্যা আবার এমনভাবে বাড়তে শুরু করে যে নিউজিল্যান্ড এর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫% হল এই মাওরিসরা।

২০১৩ সালের এক জরিপে জানা যায় যে, তাদের এই জনসংখ্যা প্রায় ৬লাখ। যা সমগ্র নিউজিল্যান্ড এর আদিবাসীদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।

মাওরিস দের নিজেস্ব ভাষা রয়েছে। এছাড়া নিউজিল্যান্ড এর ভাষা ও সংষ্কৃতিতে এদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়াতে এরা বসবাস করে। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৩% এই মাওরিসরা।

বর্তমানে মাওরিস রা সভ্য জাতি হলেও। তাদের পূর্বের ভয়াবহতার জন্য ইতিহাসের ভয়ংকর জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম একটা নাম হয়ে থাকবে।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?