বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৩ নভেম্বর, ২০১৭, ০৬:৩৯:৫৯

প্রধান প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতা দুর্নীতি লাগামহীন

প্রধান প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতা দুর্নীতি লাগামহীন

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকাণ্ডে সরকারি আইন-কানুনের তোয়াক্কা নেই। প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী অনেকটা স্বেচ্ছাচারি কায়দায় এ প্রতিষ্ঠানটিকে চালাচ্ছেন। বলা যায়, এতে তিনি নিজের পারিবারিক রাজত্ব কায়েম করেছেন। প্রধান প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজন এবং কয়েকজন বিশেষ অনুগত প্রকৌশলী-কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে জিম্মি করে রেখেছে। প্রধান প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করে এরা প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপকহারে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে প্রধান প্রকৌশলীর পরের পদ অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পর্যায়ে একটিমাত্র অনুমোদিত পদ আছে। কিন্তু, এ পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নিজের একচ্ছত্র রাজত্ব ধরে রাখার জন্য দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা মন্ত্রণালয়ের উপর প্রভাব খাটিয়ে এই পদটি পূরণ করতে দিচ্ছেন না। এছাড়া বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে পাঁচটি সার্কেল অফিস বিদ্যমান আছে। পাঁচটি সার্কেল অফিসেই পাঁচজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদায়ন আছেন। কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের কোনও আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না প্রধান প্রকৌশলী। ফলে এ্ইসব সিনিয়র প্রকৌশলীরা তেমন কোনও কাজ না করেই বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। পদ আছে, চেয়ার-টেবিল আছে, কিন্তু তাদের কোনও কাজ নেই। সকল ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলী নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচটি সার্কেল অফিস চালু করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল। ওইদিন জারি করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সার্কেল অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীগণের উপর আর্থিক ক্ষমতা পুনঃ অর্পণ করা হয়। অর্থাৎ এখন থেকে এস্টিমেট অনুমোদন, সিএস অনুমোদন, সময় বর্ধন ও সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীগণের উপর অর্পণ করা হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী সিএস ও সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের হাতে দেননি। সিএস ও সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদন করে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যই তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ উপেক্ষা করে সকল নির্বাহি ক্ষমতা অবৈধভাবে এখনও নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন। এতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের কাজকর্মে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা।
জানা গেছে, দেওয়ান মোহাম্মদ হানাজালার কোটি কোটি টাকা আয়ের একটি বিরাট উৎস হলো বদলি বাণিজ্য। বর্তমানে ঢাকা জোনে নির্বাহি প্রকৌশলী পদে আছেন আবুল কালাম মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। ইতিপূর্বে ফরিদপুরে নির্বাহি প্রকৌশলী পদে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে ঢাকায় পোস্টিং নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে, এমন কথা চাউর হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে একটি নতুন নিয়ম চালু করেছেন। তা হলো, সকল প্রকল্পের সংশোধিত প্রাক্কলন প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত অনুমোদন নিতে হবে। অথচ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ডিজিটাল প্রশাসনের যে নীতিমালা সরকার বর্তমানে চালু করেছে সেই অনুযায়ী এ কাজগুলো প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত আসার কোনও সুযোগ নেই। বস্তুত, ঘুষের রেট বাস্তবায়ন করার জন্যই তিনি সরকারি নীতিমালার বাইরে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় এ বিতর্কিত নিয়ম চালু করেছেন। সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদনের কাজে অঘোষিতভাবে ঘুষের একটি রেটও নির্ধারণ করা হয়েছে। কলেজ, মাধ্যমিক স্কুল, মডেল স্কুল, মাদ্রাসা- প্রভৃতির ক্ষেত্রে কোনটির কত টাকা ঘুষ দিতে হবে তা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী অঘোষিতভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা ওইসব সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদন করে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার আপন ভাই-ভাতিজা, শ্যালকসহ পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী প্রকৌশলী এই সিন্ডিকেটের সদস্য। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন, নির্বাহি প্রকৌশলী মীর মোয়াজ্জেম হোসেন, নির্বাহি প্রকৌশলী মো. আবুল হাসেম সরদার, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন প্রমুখ। উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন একাধারে প্রায় ১৫ বছর ধরে শিক্ষাভবনে আছেন। মাঝে ২০১১ সালের মে মাসে ঢাকার বাইরে নরসিংদীর রায়পুরে তার পোস্টিং হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তিনি যাননি। ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে শিক্ষাভবনেই ডেপুটেশনে রয়ে যান।
প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা শিক্ষাভবনে বসে সারাদেশের কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ ও টেন্ডারের ভাগ-বাটেয়ারায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এসব অপকর্মে প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার নাম ব্যবহার করছেন। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।
(সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত)

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?