মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর, ২০১৭, ১১:১০:০১

সাত হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ব্যাংক কর্মকর্তার

সাত হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ব্যাংক কর্মকর্তার

ঢাকা : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুর্নীতি মামলার বিচারাধীন অবস্থায় সাত হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন একজন শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা। বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির পর এবার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রাইম ব্যাংকে থাকা অবস্থায় বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারির মূল হোতা ছিলেন। এই অভিযোগে তার চাকরিও ছাড়তে হয়েছে। শহিদুল ইসলাম ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের হেড ও ক্রেডিট হওয়ার পর তার পছন্দের কিছু অফিসারকে হেড অফিসে ও বিভিন্ন শাখায় পোস্টিং দিয়ে, তাদের যোগসাজশে নিয়মনীতি না মেনে দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ প্রদান ও ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ব্যাংকের কয়েকশ কোটি টাকার ঋণ আদায় না হওয়ার সম্ভাবনায় আমানতকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ বাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনে শহীদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সকল মহল বিস্মিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে শহিদুল ইসলাম ঋণ মঞ্জুর ও পুনঃতফসিলীকরণের ক্ষেত্রে বিআরপিডি’র সার্কুলার কোনভাবেই অনুসরণ করেননি। অনেক ক্ষেত্রে স্ফীত মুনাফা দেখানোর স্বার্থে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বড় বড় ঋণখেলাপীদের ঋণ পুনঃতফসিল করে কৃত্রিমভাবে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। যার মধ্যে নাসা হোল্ডিংস, মেট্রো প্রোপার্টিজ, এজি প্রোপার্টিজ, টিউলিপ প্রোপার্টিজ, মেসার্স ফরিদা নার্গিস কনস্ট্রাকশন উল্লেখযোগ্য। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদনে দেখা যায় ফরিদা নার্গিস কনস্ট্রাকশনের ঋণসীমা ১৫ কোটি টাকা এবং বর্তমান স্থিতি ২১ (একুশ) কোটি টাকারও বেশী এবং এই প্রতিষ্ঠানের ঋণের মেয়াদ ৫ বছর হইলেও এর গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে ৪ (চার) বছর। মেট্রো প্রোপার্টিজি’র ঋণসীমা ১০ (দশ) কোটি এবং বর্তমানে স্ফীতি প্রায় ১১ (এগার) কোটি। এই ঋণ হিসাবটি খেলাপী না দেখিয়ে এবং বিআরপিডি’র সার্কুলার নং-১৫/১২ অনুসরণ না করে অধিকন্তু পর্যাপ্ত ডাউন পেমেন্ট না নিয়ে বার বার পুনঃতফসিল করা হয়। একইভাবে, বনানী শাখার নর্দান শিপিং, এজি প্রোপার্টিজ, জায়ান্ট টেক্সটাইলস, সাত্তার এন্টারপ্রাইজ, কর্পোরেট শাখার অরু অটো, হানজালা ট্রেড, র‌্যাংগস রিয়েল এস্টেট, গুলশান শাখার ঢাকা এলুমিনিয়াম, এডভান্স ইপিএস টেকনোলোজিস লিমিটেড, কবির এন্টারপ্রাইজ, প্রিন্সিপাল শাখার এমএনএইচ বুলু, সোনারগাঁও জনপথ শাখার বিএনএস ইন্টারন্যাশনাল, বসুন্ধরা শাখার আলিফ এন্টারপ্রাইজ সহ অন্যন্য কিছু পার্টিও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেরিত সার্কুলার অনুসরণ না করে এবং পরিচালনা পর্ষদের দিক নির্দেশনা না মেনে অধিকন্ত তথ্য গোপন করে বারবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

নতুন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও শহিদুল ইসলামের দুর্নীতির পরিচয় পাওয়া যায়। গুলশান শাখার ম্যাংগো টেলি সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে জমি ক্রয় ও টাইম লোন হিসাবে ২০ (বিশ) কোটি টাকা প্রদান করেন। যেখানে বিআরপিডি সার্কুলার ১৬/২০১০ এবং পর্ষদের নির্বাহী কমিটির নির্দেশনা অমান্যকরণসহ তথ্য গোপন করা হয়েছে। তদরূপ ফরেন একচেঞ্জ শাখার গ্রাহক ম্যাক্স অটোমোবাইল লিমিটেডকে অবৈধভাবে ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে অন্য ব্যাংক হইতে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার সহায়তা করা-সহ আরও বিভিন্ন শাখার কিছু গ্রাহকের বরাবরে নতুন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যে ধরনের অনিয়ম হয়েছে তার মধ্যেÑপর্যাপ্ত মর্টগেজ দেওয়া হয়নি, গ্রাহকের ক্রেডিট রিপোর্ট ভাল ছিল না এবং কিছু গ্রাহক ঋণ খেলাপী ছিল। এছাড়া কর্পোরেট শাখার গ্রাহক ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি বরং পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

উপরোল্লিখিত ভয়াবহ দুর্নীতির মাধ্যমে শহীদুল ইসলাম নামে-বেনামে তার নিজের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি শুধু ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতিবাজই নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতিবাজদের সাথে তার সখ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারির সময় দুদক কর্তৃক তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও প্রচুর টাকা খরচ করে দুদককে ম্যানেজ করেছেন। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুর্নীতি অনুসন্ধান টিমের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?