বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৯ মার্চ, ২০১৮, ০২:০২:৩১

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ও বিচার ব্যবস্থা ধ্বংসকরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ও বিচার ব্যবস্থা ধ্বংসকরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার উত্থান ও বিচার ব্যবস্থা ধ্বংসকরণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ‘মার্গারেট থেচার’ সেমিনার হলে দেশটির ছায়া স্বাস্থমন্ত্রী জুলি কুপার (এমপি)- এর আমন্ত্রণে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

‘ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটি এলায়েন্স’ (বিবিসিএ)- এর আয়োজনে উক্ত সেমিনারে লেবার দলীয় এমপি জুলি কুপার, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ‘হাউস অফ লর্ডস’ এর বাংলাদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ লর্ড নাজির আহমেদ সহ কনজারভেটিভ ও লেবার দলীয় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ছাড়াও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দুইঘণ্টা ব্যাপী সেমিনার চলে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটি এলায়েন্স এর চেয়ারম্যান আফজাল সৈয়দ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ছায়া স্বাস্থমন্ত্রী জুলি কুপার (এমপি) বলেন, “আজ বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনটি বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে- ১) বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই, ২) সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়, এবং ৩) বাংলাদেশে স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশের কোন সুযোগ নেই”। সংসদে যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে আলোচনা হবে, তখন আমি অবশ্যই এ বিষয়গুলো তুলে ধরবো, যোগ করেন তিনি।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ‘হাউস অফ লর্ডস’ এর প্রথম মুসলিম সদস্য এবং বাংলাদেশ বিষয়ক লর্ডস কমিটির কোষাধ্যক্ষ লর্ড নাজির আহমেদ বলেন, “আমার কমিটির পরবর্তী সভায় আমি অবশ্যই বাংলাদেশে বিচার বিভাগের উপর সরকারী হস্তক্ষেপের সর্বশেষ নজির গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। তবে আপনারা যারা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী আছেন, তাদেরও অনেক দায়িত্ব আছে। আপনারা এখানে ক্রমাগত তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারেন, যেটা ঢাকা কিংবা সমগ্র বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে সম্ভব নয়।”

সেমিনারে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কনজারভেটিভ ও লেবার দলীয় অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তাদের বক্তব্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্বেগের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন এবং সংসদীয় আলোচনায় তা তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে সেমিনারে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রথমে সংক্ষেপে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম ও বিচার বিভাগের উপর সরকারী হস্তক্ষেপের বিভিন্ন নজির তুলে ধরেন। এরপর যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের আলোচনায় বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

ডেমোক্রেটিক পলিসি ফোরাম, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রিসার্স ফেলো ডঃ মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার বলেন, “সদ্য সাবেক প্রধাণ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অতি সম্প্রতি যে উপায়ে কারাবন্দী করা হল, তা বিচার বিভাগের উপর সরকারী হস্তক্ষেপের সুস্পষ্ট প্রমাণ।” এছাড়া তিনি তাঁর উপর বিচার বিভাগীয় অবিচারের দৃষ্টান্তও তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ডঃ খলিফা মালিক বলেন, বর্তমান সরকার পশ্চিমা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ভারত ও রাশিয়ান বলয়ের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুকে পড়েছে। কিন্তু এতেও তাদের শেষ রক্ষা হবে না।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের রোহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ডঃ আলিয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দীন রিমন, ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ, সাবেক ছাত্রদল নেতা নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান, শের-এ-বাংলা এ,কে, ফজলুল হকের দৌহিত্র মামনুন মোর্শেদসহ আয়োজক সংস্থা বিবিসিএ নেতৃবৃন্দ।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?