বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ০৭ জুলাই, ২০১৮, ১২:২৮:৫৪

পানামা রোগে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন কলা

পানামা রোগে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন কলা

বিলুপ্তির পথে কলা! হ্যাঁ আঁতকে ওঠার মতো এমন কথাই শোনাচ্ছেন গবেষকরা। ভয়ঙ্কর এক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের সবখানে জনপ্রিয় এই ঔষধি ফল। সে রোগ এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সত্যিই বুঝি বিলুপ্তির পথ ধরেছে কলা।

রোগটির নাম ‘পানামা’। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এর নাম ‘ফিউসারিয়াম অক্সিসপোরাম কিউবেন্স’। এক ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ। এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে কলার এ রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।

আর এ কারণে, ক্যাভেনডিশ ব্যানানা নামের একটি সাধারণ প্রজাতির কলা, যা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, শিগগিরই বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা গবেষকরা। কারণ এই সুস্বাদু কলাটিই পানামা রোগের এবারের মূল শিকার।

একটি হিসাবে দেখানো হয়েছে, কেবলমাত্র যুক্তরাজ্যেই বছরে ৫০০ কোটি ক্যাভেনডিশ ব্যানানা খাওয়া হয়।

এ ধরনের কলাগুলো দেখতে একই রকম এবং এর মধ্যে পানামা রোগ খুব দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে চলতি ফসলে ব্যাপক হানি ঘটেছে।

কলার ফসলে এই ঘটনাকে চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর প্রতিকারে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। প্রতিষেধক হিসেবে একটি বিরল প্রজাতির মাদাগাস্কান কলা গাছের কথা তারা বলছেন, যেটি এই পানামা রোগের বিপরীতে কাজ করতে পারে।

বৃক্ষ বিশেষজ্ঞরা ওই মাদাগাস্কান বন্য কলার সঙ্গে ক্যাভেন্ডিশ ব্যানানা প্রজাতির মিশ্রণে একটি হাইব্রিড প্রজাতি বানানোর চেষ্টার রয়েছেন, যা পানামা রোগের বিরুদ্ধে সংক্রমণ প্রতিষেধক হয়ে কাজ করবে।

তবে এই বন্য মাদাগাস্কান ব্যানানা অত্যন্ত বিরল। এর মাত্র পাঁচটি গাছ এখন বিশ্বে টিকে রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিবিসি একটি প্রতিবেদনে রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস-এর জ্যেষ্ঠ বনরক্ষক রিচার্ড অ্যালেনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই বিরল রোগ প্রতিরোধক প্রজাতিটিই পারবে ক্যাভেনডিশ ব্যানানার বিলুপ্তি ঠেকাতে।

মাদাগাস্কারের জলবায়ুর কারণেই সেখানে খরা ও রোগবালাইয়ের মাঝেও কলাগুলো টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে।

‘ওখানকার কলাগুলোতে পানামা রোগের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বলাই চলে ওগুলো এ ধরনের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম,’ বলেন অ্যালেন।

তবে এই মাদাগাস্কান কলাগুলো, ক্যাভেনডিশ কলার মতো নয়। এগুলোর বীজ থেকে গাছ হয় আর খেতেও বিস্বাদ।

ধারণা করা হচ্ছে এই দুই প্রজাতির মিশ্রণে একটি হাইব্রিড প্রজাতি সৃষ্টি করা যেতে পারে যা খাওয়া যেমন যাবে তেমনি টিকেও থাকবে।

তবে মাদাগাস্কান কলার উৎপাদনও জলবায়ুগত কারণে এখন চরম পরিস্থিতিতে রয়েছে। দাবানল ও বন উজার করে কৃষিজমির পরিধি বাড়ানোর ফলে এ প্রজাতির গাছও উজার হয়ে গেছে। ফলে এই গাছ এখন আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন) এর লাল তালিকাভুক্ত।

মাদাগাস্কার সংরক্ষণ কেন্দ্রের ড. হেলেন রালিমানানাকে উদ্ধৃত করে একটি খবরে বলা হয়েছে, এই বন্য কলার প্রজাতি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি কারণ এর বড় বড় বিচিগুলো থেকে এক ধরনের জিন পাওয়া যেতে পারে যা কলা চাষে সুফল দেবে।

নেদারল্যান্ডসের ওগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব বৃক্ষরোপণ বিশেষজ্ঞ ড. গার্ট কেমাকে উদ্ধৃত করে দ্য মেইল অনলাইন বলেছে, ক্যাভেন্ডিশ ব্যানানা এখন ধ্বংসের মুখে আর কলার অন্য কোনো প্রজাতি এর স্থান নিতে পারছে না। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আরও অনেক স্থানীয় প্রজাতির কলা এখন বিপন্ন প্রায়।


 

যেসব এলাকায় কলা এরই মধ্যে পানামা রোগে আক্রান্ত সেখান থেকে কলা অন্যত্র রপ্তানি বন্ধ রাখার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ১৯৫০ এর দশকে একই পানামা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিগ মাইক নামের আরেকটি প্রজাতির কলা বিলুপ্ত হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?