মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, ০৬:০২:৩৫

এনআরবিসি ব্যাংক নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর মিথ্যাচার

এনআরবিসি ব্যাংক নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর মিথ্যাচার

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো ‘একজনের কারণে ঝুঁকিগ্রস্ত এনআরবিসি ব্যাংক’ শিরোনামে এক সংবাদে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকটিকে একটি ঝুকিপূর্ণ ব্যাংক আখ্যা দিয়ে তার নানান বিষয় উপস্থাপন করে। সেখানে বর্তমান মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শহীদুল আহসানকে জড়িয়ে ব্যাংকটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, ঋণ ও বেনামি শেয়ারের বিষয় তুলে ধরে, যা পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ছাপা হয়। ব্যাংকটি এর প্রতিবাদ জানালে তা ১৮ ফেব্রুয়ারি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে এনআরবিসি ব্যাংক দাবি করেছে, প্রতিবাদ ছাপানো এবং প্রতিবাদের বিপরীতে কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে না পারার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক প্রথম আলো মিথ্যাচার করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যে প্রতিবেদনের কথা দৈনিক প্রথম আলো সূত্র হিসেবে বলছে, সে প্রতিবেদনের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনআরবিসি ব্যাংক। এ ছাড়াও সংবাদে উল্লেখিত অনেক বিষয় মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্যাংকটি। পাঠকদের জন্য সেগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

১. বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন

এক লিখিত বক্তব্যে এনআরবিসি ব্যাংক দাবি করেছে, নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে প্রেরণ করা হয়, যেন ব্যাংকগুলো তাদের সুপারিশসমূহ প্রতিপালন করে অনিয়মসমূহ সংশোধন করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এমন কোনো প্রতিবেদন এনআরবিসি ব্যাংককে কখনোই হস্তান্তর করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন কোনোও প্রতিবেদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এবং অন্য কেউই এই ধরনের কোনোও প্রতিবেদনের কথা জানেন না। যে প্রতিবেদন একটি ব্যাংকের ওপর এবং তা কয়েক মাস আগে করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, তা এখন পর্যন্ত ব্যাংকের হাতে এসে পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ব্যাংকেই বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেন। সেই ভিত্তিতে এনআরবিসি ব্যাংকেও বিভিন্ন সময় পরিদর্শন প্রতিবেদন হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রতিবেদনে এনআরবিসি ব্যাংক ঝুঁকিগ্রস্ত চিহ্নিত, এজি এগ্রো বা শহীদুল আহসানকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়া হয়েছে-এমন তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে শুভংকর সাহা জানান, এ ধরনের প্রতিবেদন খুবই ক্লাসিফায়েড (অত্যন্ত গোপনীয়)। এসব প্রতিবেদনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক কাউকে কিছু বলতে পারে না।

প্রথম আলো তাহলে কীভাবে ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ভালো জানবেন’।

২. কৌশল নয়, আইন অনুযায়ীই পাঁচ পরিচালক বাদ

দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাকালে এনআরবিসি ব্যাংকে ২০ জন পরিচালকের নাম থাকলেও নানা কৌশলে জার্মানপ্রবাসী প্রকৌশলী আবু মোহাম্মদ তুষার ইকবাল রহমান, কানাডায় একটি কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিরোজ হায়দার খান, ফিনল্যান্ডে একটি কোম্পানির সিইও তমাল এস এম পারভেজ, রাশিয়ায় তিনটি কোম্পানির অন্যতম মালিক রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু এবং যুক্তরাজ্যে তিনটি কোম্পানির এমডি মোহাম্মদ আদনান ইমাম নামের পাঁচজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। দাবি অনুযায়ী, বরং এই তথ্য প্রকাশে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। সঠিক তথ্য গোপন করেছেন পত্রিকার দুই প্রতিবেদক।

এই পাঁচ পরিচালক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্যাংকটিতে ছিলেন এবং বিগত ৩ বছর ধরে বোর্ডে বসছেন। ব্যাংকটি বলছে, আবু মোহাম্মদ তুষার ইকবাল রহমান ও ফিরোজ হায়দার খান-এর বিরুদ্ধে বেনামে ঋণ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। অপরদিকে তমাল এসএম পারভেজ, মোহাম্মদ আদনান ইমাম ও রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু-এর বিরুদ্ধে বেনামী ঋণ গ্রহণ, বিরাট অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার সন্দেহজনক লেনদেন এবং অবৈধ অস্ত্রসহ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় প্রবেশ করাসহ নানা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইনানুযায়ী তাদের পরিচালক পদ শূন্য হয়ে যায়। এই পাঁচ জন ডিরেক্টরের অপকর্ম প্রমাণিত হওয়ায় ব্যাংকটির সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বাকি ১৫ জন ডিরেক্টর বোর্ড মিটিং-এ তাদেরকে বোর্ড থেকে সরে যেতে বলেন। বিষয়টি আদলত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশক্রমে তাদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

উল্লেখ্য যে, বহিষ্কৃত এই পাঁচ পরিচালক বিভিন্ন মিডিয়াতে বিগত কয়েক মাস ধরে একই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদটি আগের সেই সংবাদগুলোরই ফটোকপি। ব্যাংক মনে করছে, এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন অসংগতিপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিমূলক।

৩. ঋণের পরিমাণেও ভুল তথ্য

দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদে শহীদুল আহসানের মালিকানাধীন এজি এগ্রোকে ১৮৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে অতিরঞ্জিত বলেছে এনআরবিসি ব্যাংক। ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংটির দাবি অনুসারে, ঋণের সঠিক পরিমাণ হচ্ছে ৬৮ কোটি (যার ভেতর ৫০ কোটি দিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক এবং ১৮ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক রিফাইনান্সিং হিসেবে)।

৪. ঋণ দেওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি?

দৈনিক প্রথম আলো দাবি করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি সত্বেও এজি এগ্রোকে ঋণ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এনআরসিবি ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ নিয়ম অনুসারেই এজি এগ্রোকে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। সেসময় কোনো আপত্তি এনআরবিসি ব্যাংককে জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বরং ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল এজি-এর প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত প্রকল্পে পুনঃঅর্থায়নের অনুমোদন করেছে।

৫. ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ কীভাবে?

সংবাদে বলা হয়েছে, এজি এগ্রোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে ব্যাংকটির দাবি। কী কারণে বা কীভাবে ঋণটি ঝুঁকিপূর্ণ হলো এবং আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিগ্রস্ত হলো, তা পুরো প্রতিবেদনে কোথাও পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

এভাবে মনগড়া বক্তব্য তুলে দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে জনমনে শুধু বিভ্রান্তিই নয়, একটি ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে বলেও জানানো হয় ব্যাংকটির পক্ষ থেকে।

তাছাড়া ঋণের বিপরীতে নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার পরও তা কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়? এ নিয়ে প্রতিবেদকদ্বয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনআরবিসি ব্যাংক।

৬. ঋণের বিপরীতে যথোপযুক্ত জামানত রয়েছে

প্রয়োজনীয় সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে যে দাবি দৈনিক প্রথম আলো করেছে, তাও ঠিক নয় বলে দাবি করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।

ব্যাংক দাবি করেছে, শহীদুল আহসান এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অন্যান্য গ্রাহকদের মতো একজন গ্রাহক। তার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সকল ঋণই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা অনুসারেই প্রদান করা হয়েছে এবং ওই গ্রাহকের সকল ঋণই নিয়মিত আছে। ঋণটি কৃষিভিত্তিক একটি আধুনিক শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য প্রদান করা হয়। উক্ত ঋণটি ভূমি ও কারখানা ভবন, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্বারা ১০০ ভাগ আচ্ছাদিত আছে। ফলে কম মূল্যের জামানতের অভিযোগটি সঠিক নয়।

৭. অভিযোগের বিপরীতে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে সবই স্পষ্ট

পুরো প্রতিবেদনে এজি এগ্রো ও শহিদুল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুললেও কোনো আপত্তি যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক করেনি, তেমনই ঋণ না দেওয়ার মতো কোনো কারণ পায়নি এনআরবিসি ব্যাংকও। এ নিয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ফরাসত আলীও স্পষ্ট বলেছেন, ‘এজি এগ্রোকে আরও ঋণ দিতে পারলে আমাদেরই ভালো হতো, ব্যাংকের মুনাফা বাড়ত’। বক্তব্যটুকু প্রকাশিত সংবাদেও রয়েছে।

৮. বেনামি শেয়ারের অভিযোগ ভিত্তিহীন

প্রতিবেদনে বেনামে শেয়ার ধারণের যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা ঠিক নয় উল্লেখ করে এনআরবিসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিকট থেকে কখনও কোনো অভিযোগ পায়নি।

ব্যাংকটি দাবি করে, সব নিয়ম মেনেই ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি পরিচালকের যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং অর্থের উৎস যাচাই-বাছাই করেই তাকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার অনুমোদন দিয়ে থাকে। তাই সেখানে বেনামি হওয়ার সুযোগ নেই। এখন কোনো পরিচালকের সঞ্চয়ী হিসাব বা অন্য কোনো হিসাব খোলার সময় স্বাভাবিকভাবেই পরিচয়দানকারী হতে পারেন কেউ একজন। এতে নিশ্চয়ই শেয়ার বেনামি হয়ে যায় না?

কোনো পরিচালকের হিসাব থেকে লভ্যাংশ উত্তোলন কি যে কেউ করতে পারেন? এমন প্রশ্ন তুলে ব্যাংকটি দাবি করে, পরিচালক কাউকে ক্ষমতা দিলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এতে শেয়ার বেনামি বা বিক্রি হয়ে যায় কিনা- এমন প্রশ্ন তুলে ব্যাংকটি।

প্রতিবেদনে শেয়ার বেনামি উল্লেখের বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এনআরবিসি ব্যাংক।

৯. শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়টিও ভুল

প্রতিবেদনে ব্যাংকের পরিচালক কামরুন নাহারের শেয়ার হস্তান্তরের জন্য যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তাও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে এনআরবিসি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ওই সংক্রান্ত কোনো শেয়ার আদৌ হস্তান্তরিত হয়নি।

১০. ডিবিসি’র বিজ্ঞাপন চুক্তি টাকার পরিমাণেও গড়মিল

দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা বাংলা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস চ্যানেলের (ডিবিসি) সাথে বছরে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বিজ্ঞাপন দেওয়ার চুক্তি করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। বিজ্ঞাপন বাবদ প্রতি মাসে ব্যাংকটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করবে। এর সঙ্গে থাকবে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও অন্যান্য খরচ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিজ্ঞাপন চলছে।

দৈনিক প্রথম আলোর এ তথ্যকে অতিরিঞ্জিত উল্লেখ করে এনআরবিসি ব্যাংক জানিয়েছে, ডিবিসিতে প্রতি মাসে বিজ্ঞাপন বাবদ ৫ লাখ টাকা দিচ্ছে। ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্যটি একেবারেই ভিত্তিহীন। বোর্ড মিটিং-এর সিদ্ধান্ত থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

ডিবিসি সূত্রে জানা গেছে, তারা এক মাস বিনামূল্যে এনআরবিসি ব্যাংকের বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করে। এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে মাত্র ৫ লক্ষ টাকায় ছয় মাসের জন্য ওয়ার্কঅর্ডার পায়।

দৈনিক প্রথম আলো এই বিশাল অংকের টাকা দেখিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে মাত্র।

১১. পরিচালক আবদুল মান্নানের বক্তব্য

সংবাদে এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালক এ বি এম আবদুল মান্নানের বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে প্রথম আলোর ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন আবদুল মান্নান।

এতে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য এনআরবিসি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লগ্নে জনাব ইঞ্জিনিয়ার ফরাসাত আলী (উনিও যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন, আমার সাথে অনেক দিনের পরিচিত) আমাকে অফার দেন পরিচালক হওয়ার জন্য। আমি দেশে বিনিয়োগের স্বার্থে পরিচালক হওয়ার মনস্থির করি। তাই আমি বিনিয়োগ করি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি মোতাবেক। আমি কাগজপত্র ও ফরেন কারেন্সি দিয়ে পরিচালক হই। আমার সব সময় থাকার সম্ভব না, বিধায় আমি আমার পরিবর্তে বিকল্প পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার গোলাম ফারুককে পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বোর্ডকে অনুরোধ করি। বোর্ড যথাযথ অনুমোদন দেন।’

পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আবদুল মান্নান দাবি বলেন, ‘এনআরবিসি ব্যাংকের আমার শেয়ার নিয়ে যে তথ্য এসেছে তা ঠিক নয়’।

পরিশেষে

এই ব্যাংকটি ইতোমধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হয়েও ব্যাংকিং জগতের অন্যতম প্রধান ব্যাংক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক চিত্রে তারই প্রতিফলন ঘটে। ২০১৬ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৪,৫৫৯ কোটি টাকা, যার ভেতর ঋণ দেওয়া ছিল ৩,৭৪০ কোটি টাকা এবং পরিচালন মুনাফা ছিল ১৭১ কোটি টাকা। এবং মুনাফার প্রবৃদ্ধির এই হার ছিল ৬২%। এমন একটি শক্তিশালী ব্যাংক কীভাবে একজন গ্রাহকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর দৈনিক প্রথম আলোর কাছেও নেই।

সুত্র : প্রিয়

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?