রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮, ০১:১৯:৪১

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের পর রাষ্ট্রপক্ষেরও আবেদন

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের পর রাষ্ট্রপক্ষেরও আবেদন

ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের পর রাষ্ট্রপক্ষও আবেদন করেছে।

মঙ্গলবার সকালে জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদনের এক ঘণ্টার ব্যবধানে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক আবেদন করে। দুটি আবেদনই দুপুরে চেম্বার বিচারপতির আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে। দুপুরে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক আবেদন করার কথা জানালেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক। তিনি জানান, আজ দুপুর দেড়টায় চেম্বার বিচারপতির আদালতে তা উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় সোমবার (১২ মার্চ) চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন।

সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চার আসামি হলেন সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে দুদকের আবেদন
ঢাকা: খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন হাইকোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুদক( দুর্নীতি দমন কমিশন) এই আবেদন করেছে। মঙ্গলবারই এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

দুদকের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সোমবার জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরই আঁচ করা গিয়েছিল। কেননা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাগারে আটক খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের চার মাসের জামিন আদেশ ঘোষিত হওয়ার পরই হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) আইনজীবী খুরশিদ আলম।

আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও জামিনের আদেশ স্থগিত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে শুনানি করেছি। কিন্তু শুনানি নিয়ে আদালত তাকে চার মাসের জামিন আদেশ দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা অসন্তুষ্ট হয়েছি। এখন আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আগামীকাল লিভ টু আপিল দায়ের করবো। একই সঙ্গে আজকের আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে যাবো।’

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তার আইনজীবীরা।

২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এই মামলার আপিল আবেদনে ৪৪টি যুক্তি তুলে ধরেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আদালত শুনানি শেষে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে মামলার নথি তলব করেন। নিম্ন আদালত থেকে সেই নথি ১১ মার্চ রবিবার দুপুরের পর উচ্চ আদালতে এসে পৌঁছায়। তবে এদিনই জামিন বিষয়ে আদেশ ঘোষণার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ নির্ধারিত ছিল আদালতের।

এদিন সকালে আদালত যথারীতি বসলেও নথি পর্যালোচনার জন্য আদেশ ঘোষণা আরও একদিন পিছিয়ে আজ সোমবারের তারিখ নির্ধারিত করেন। সে অনুযায়ী আজ দুপুরে আদালত এ আদেশ ঘোষণা করেন।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?