রবিবার, ২৭ মে ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮, ০১:১১:৪৬

‘খালেক প্রধান ডাকাত’, ফল প্রত্যাখ্যান মঞ্জুর

‘খালেক প্রধান ডাকাত’, ফল প্রত্যাখ্যান মঞ্জুর

খুলনা : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আজ বুধবার সকাল পৌনে ১১টায় মহানগরীর কে ডি ঘোষ রোডে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেন। সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে বনদস্যু, জলদস্যু, সন্ত্রাসী সবাই প্রকাশ্যে কাজ করেছে। এই অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে তিনি কীভাবে খুলনা মহানগরীকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ভূমিদস্যুমুক্ত  করবেন? আগামীতে খালেককে বোরখা পড়ে জনগণের সামনে বের হতে হবে, সেই পরিবেশই তিনি তৈরি করলেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে ভোট ডাকাতির নতুন রূপ প্রকাশ পেয়েছে।

১০৫টি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনিয়ে ভোট দেয়া হয়েছে, ৪৫ টি কেন্দ্রে ভোটারদের আটকে দেয়া হয়েছে। ভোট ডাকাতির এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে তালুকদার আব্দুল খালেক। জয়ী হয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছিলেন মঞ্জুকে পাশে নিয়েই তিনি কাজ করতে চান। এ প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন মঞ্জু। তিনি বলেন, প্রধান ভোট ডাকাত তিনি। তার পাশে থেকে সহযোগিতার কোনো মানসিকতাই আমার নেই। আমি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেবে। অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের চরিত্র ফুটিয়ে তুলবে। সেনাবাহিনী ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে বিজিবি, র‌্যাব ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ সক্রিয় ছিল। সকাল থেকে রিটার্নিং অফিসার ফোন রিসিভ করেননি। এ নির্বাচন প্রমাণ করেছে সেনাবাহিনী ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়কও না, যোগ্যও না।

উল্লেখ্য, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন মঞ্জু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, একটি মেয়র নির্বাচনে পরাজিত হলে কী এমন হতো সরকারের?

মঞ্জু বলেন, এই সরকার ভোট ডাকাতির সরকার। ভোটারবিহীন নির্বাচনের সরকার। এই সরকার যেনতেন প্রকারে জিততে চায়। তারা হারতে চায় না। যা গতকাল খুলনা ও দেশবাসী দেখেছে।

তিনি বলেন, আমি প্রচারণার শেষ দিনে বলেছিলাম-নির্বাচনে বিজয়ী হতে সরকার নতুন ইলেকশন ইঞ্জিরিয়ারিং করছে। যে কথাগুলো বলেছিলাম সেগুলোই শতভাগ সত্য হয়েছে। সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নতুন কিছু বিষয়। একটি শহরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী হতে সরকার রাষ্ট্রীয় সকল শক্তি এখানে নিয়োজিত করেছিল।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মঞ্জু বলেন, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে ভোট কারচুপির আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যা গতকাল আমরা জানতাম না। আজকের পত্রপত্রিকার রিপোর্ট পড়ে যা জানতে পেরেছি এটি ভোট ডাকাতির নতুন একটি সংস্করণ।

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?