সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:১৯:১১

তিন এমপিসহ ১৪ নেতাকে আওয়ামী লীগের শোকজ

তিন এমপিসহ ১৪ নেতাকে আওয়ামী লীগের শোকজ

ঢাকা : জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ মেটানোর জন্য তিনজন এমপি এবং একজন সাবেক মেয়রের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে একজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ আরও ১০ জনকে। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এসব শোকজ নোটিশ কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার তাগিদও দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। তবে শোকজ নোটিশ এখনও হাতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন অনেকে।

আওয়ামী লীগের কয়েকটি সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৪ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে গত রোববার দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে গৃহদাহে জড়িত নেতাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে কুরিয়ারযোগে চার জেলায় কোন্দলে জড়িত নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা, বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকেও উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। কামরানের পক্ষে ভূমিকা না রাখায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলমকে। দলের নেতাদের পক্ষে রাখতে না পারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকেও।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হামিদুল ইসলামকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীতে তিন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দাদার সঙ্গে কোন্দলে জড়ানোয় নোটিশ পাঠানো হয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদকে। সংগঠনে কেন সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারছেন না তা জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারাকেও।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারওয়ার টিপুকে।

এদিকে দলের গঠনতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ৪৭ (ঠ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১০ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেহ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হইলে দল হইতে সরাসরি বহিস্কার হইবেন এবং যাহারা দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করিবেন, তাহারা তদন্ত সাপেক্ষে মূল দল বা সহযোগী সংগঠন হইতে বহিস্কৃত হইবেন।' এ ছাড়াও আলোচিত নেতাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রের ৪৭ (ছ) অনুচ্ছেদ কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার ক্ষমতা কেবল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের থাকিবে।’

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?