শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৬:১৮:১৩

কামাল হোসেনরা বড় ব্যক্তিত্ব কিন্তু রাজনীতিতে পরিত্যক্ত: হাছান

কামাল হোসেনরা বড় ব্যক্তিত্ব কিন্তু রাজনীতিতে পরিত্যক্ত: হাছান

ঢাকা : একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনীতিতে তারা পরিত্যক্ত।  এসব রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঐক্যে আওয়ামী লীগ ভয় পায় না।

শুক্রবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।  
 
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী, মান্না, আব্দুর রব ওনারা হচ্ছেন রাজনীতিতে পরিত্যক্ত ব্যক্তিত্ব। এই পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঐক্য করে কিছু হবে না। তাদের নিজেদেরই এমপি হওয়ার জনপ্রিয়তা নেই এলাকায়। ওনারা বড় বড় রাজনীতিবিদ, বড় বড় ব্যক্তিত্ব কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে ওনারা সবাই পরিত্যক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।’

জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করার লজ্জা মির্জা ফখরুল ঢাকতে পারছেন না মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি নেতারা জাতিসংঘে যাচ্ছেন। পত্রিকায় খবর দেওয়া হলো জাতিসংঘের মহাসচিব নাকি তাদের ডেকেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এখন আফ্রিকায় আর তিনি নাকি তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ডেকেছেন। আর দেখা করলেন তারা জাতিসংঘের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে। আমাদের দেশে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রথম যার চাকরি হয় তিনি হন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। আর জাতিসংঘেরও সর্বনিম্ন অফিসারদের টায়ার হচ্ছে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। ওনারা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করলেন। তা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো কি আলোচনা হয়েছে, আমতা আমতা করে কিছু বলতে পারলেন না। অর্থাৎ জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ওনারা জাতিসংঘে গেছেন আর সেখানের সর্বনিম্ন টায়ারের সঙ্গে দেখা করেছেন।’

বিএনপি নেতারা জাতিসংঘে গিয়ে জাতির সঙ্গে ভাঁওতাবাজী করেছেন-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এগুলো জাতির সঙ্গে ভাঁওতাবাজী করা ছাড়া আর কিছুই না। তাই আমি বিএনপিকে অনুরোধ করব-জাতিকে ধোঁকা দিয়ে লাভ নেই। আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নাই, সেটি পরিষ্কার হয়ে গেছে। সরকারের বিরুদ্ধে যদি আপনাদের কোনও বক্তব্য থাকে, কোনও অভিযোগ থাকে, আপনারা যদি জনগণের জন্য রাজনীতি করে থাকেন, তাহলে জনগণকে অভিযোগ দিবেন। সমস্ত পৃথিবী ঘুরে বিদেশিদের কাছে অভিযোগ দিবেন, তারা কি দেশে এসে ভোট দিবে? কোনও দেশের রাজনৈতিক বিরোধ নিরসন করা জাতিসংঘের কাজের মধ্যে পড়ে না। সম্ভবত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সেটাই জানিয়ে দিয়েছেন। এই কারণেই মনে হয় মির্জা ফখরুল সাহেব আমতা আমতা করছেন, কি আলোচনা হয়েছে কিছু বলতে পারছেন না।’

বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে কারা আছে তাদের পরিচয় জানা দরকার। আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কি করবো না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমার আছে, সেই স্বাধীনতা আমার আছে। কিন্তু আরেকজন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না সেটার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা অন্যায়। বিএনপি ২০১৪ সালে সেটা করেছিল। তারা এখনও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য সমস্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’     

লবিস্ট ফার্মকে দেওয়া অর্থের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। ২০ হাজার ডলার ইতোমধ্যে দিয়েছেন, প্রতিমাসে তাদের ৩৫ হাজার ডলার করে দিতে হবে। আমি সরকারকে অনুরোধ জানাবো, যেহেতু বিএনপি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এ নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ৩৫ হাজার ডলার প্রতিমাসে দেওয়া কিংবা ২০ হাজার ডলার কোথা থেকে দেওয়া হলো? এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএফইউজে।র সভাপ‌তি মোল্লাহ জালাল, বলরাম পুদ্দার, চিত্তরঞ্জন দাস প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?