Print
প্রচ্ছদ » বিনোদন
Wed, 11 Jan, 2017

অভিনেতা কল্যাণের রিমান্ড চায় পুলিশ

ঢাকা : দৈনিক প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলামকে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত করার ঘটনায় করা মামলায় অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক খান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে কল্যাণকে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জানান, বিকাল ৩টায় ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হকের আদালতে রিমান্ড শুনানি হতে পারে।

মঙ্গলবার বিকালে কল্যাণের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় মামলা করেন প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাজ্জাদুল কবীর। মামলা নম্বর ৬। এজাহারে দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩৩৮(ক) ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির উল্টো দিকের রাস্তায় মোটরসাইকেল আরোহী জিয়া ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় একটি প্রাইভেটকার। এতে জিয়া মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। সেখানে উপস্থিত অন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জিয়া ইসলামের চিকিৎসার ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে।

পরে চিকিৎসকরা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো কিংবা বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী, দুপুরে জিয়াকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় কল্যাণের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাজ্জাদুল কবীর। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাত দেড়টার দিকে কল্যাণ কোরাইয়া নামের একজন মডেল ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রথম আলোর রিপোর্টার সাদ্দাম হোসেন, হুজায়ফা মুহাম্মদসহ অন্য লোকদের জানান, তিনি এ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। দুর্ঘটনায় মোটরবাইকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোটরবাইকটির নাম হচ্ছে হিরো গ্লামার-১২৫ সিসি। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা। আমি প্রথম আলোর কর্তৃপক্ষের পক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক হিসেবে এই অভিযোগ দিলাম। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মর্জি হয়। ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হলো।