Print
প্রচ্ছদ » রাজনীতি
Wed, 11 Jan, 2017

১/১১ সরকারের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা এখনও চলছে : মির্জা ফখরুল

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘এই দেশে আইনের শাসন, সুশাসন ও গণতন্ত্র কোথায়, কিভাবে আছে আমরা বুঝতে পারি না। কারণ এখানে সমস্ত কিছু একাকার হয়ে গেছে একে। আর সেই একজন হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেন তিনিই সব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেই একজনই (হাসিনা) রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানের ভূমিকা পালন করেন। আবার তিনিই বিচারেরও প্রধান, তদন্তেরও প্রধান। অথচ তিনি খালেদা জিয়ার নামে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন তিনি (খালেদা) নাকি এতিমদের টাকা চুরি করে খেয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি কি সরকারের প্রধান? আপনি কি একজিকিউটিভ ব্রাঞ্চের প্রধান? একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে, সেই মামলার অনুসন্ধান হয়েছে। অনুসন্ধানের পর বিচার চলছে। আপনি ইতোমধ্যে অনুসন্ধান করে ফেলেছেন, অভিযুক্তও করেছেন। বলে দিচ্ছেন উনি (খালেদা) চুরি করেছেন। অর্থাৎ প্রমাণ লাগবে বিচারকের রায় দেয়ার। হোয়েন একজিকিউটিভ সে সামথিং- তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি এইভাবে কথা বলতে থাকেন তাহলে মামলার রায় কোনো দিকে যাবে সহজেই তা বুঝতে পারা যায়। এইভাবে সরকার প্রধান হয়ে তিনি যখন আরেকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মামলার রায় সর্ম্পকে কথা বলেন তখন সেই মামলার রায় কি হবে আমরা জানি।’

বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কচি কাঁচার মেলা মিলনায়তনে কালজয়ী চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং সেই মামলা প্রমাণিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশপ্রেমিক মানুষদের যতই রুখে দিতে চান তাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামীদের স্তব্ধ করা যাবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সমাবেশ করেছে। তারও আগে সম্ভবত হোসেইন মহাম্মদ এরশাদও জনসভা করেছেন। দুটো জনসভাই করেছেন যারা এখন তথাকথিত মহাজোট আবার তথাকথিত বিরোধীদলে রয়েছেন বা সরকারের মদদপুষ্ট। আমরা যারা সরকারে নেই কিন্তু গণমানুষের সমর্থিত বড় একটি রাজনৈতিক দল তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ জানুয়ারি জনসভা করার অনুমতি চেয়েছিলাম। অনুমতি পাইনি। তাদের (আওয়ামী লীগ) যোগ্য নেতা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনেক কথা বলেন। গতকালও বলেছেন বিএনপিকে এখন আর অনুমতি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আর মহাজোটের সমন্বয়কারী বলেছেন, নাশকতার আশঙ্কায় জনসভার অনুমতি দেয়া হয়নি বিএনপিকে। এটা যে নতুন কিছু নয় বিএনপির (আমরা) তা জানা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী তার ৪৫ মিনিটের ভাষণে এক জায়গায় বলেছেন ‘খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের ভাষা শিখতে হবে।’ কিন্তু যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, যারা গণতন্ত্র বলতে নিজেদের প্রয়োজনীয় কথাটা বলে। তারা আবার গণতন্ত্র শিখাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভাষা শিখতে বলছেন, কার কাছে গণতন্ত্র শিখবো? যারা ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তাদের কাছে? এখন আবার সুযোগ পেয়ে ছদ্মবেশে একই ঘটনা ঘটাচ্ছেন। পত্রপত্রিকা বন্ধ করে দিচ্ছেন, টেলিভিশন টক শোতে কেউ কেউ কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে নির্দয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আপনারা এমন গণতন্ত্র দেখিয়েছেন যে একটি নির্বাচন করেছেন সেখানে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিবার্চিত হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পর থেকে যেখানে অসংখ্যবার বিএনপিসহ বিরোধীমতের সভা সমাবেশ র‌্যালি করতে দেয়নি বর্তমান সরকার সেখানে আপনারা আবার গণতন্ত্রের কথা বলেন?’- প্রশ্ন রাখেন মির্জা ফখরুল।

দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘দেশে শুধু গণতন্ত্র নেই তাও নয়, আইন সকলের জন্য সমান নয়। সারা দেশে এখন দুটো আইন। আওয়ামী লীগের জন্য একটি আইন আর একটি আইন হচ্ছে বাকিদের জন্য।’

দেশ গভীর সঙ্কটে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন অর্থাৎ সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। যেখানে সকল মানুষ তার মতামত তুলে ধরতে পারবে। এই ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ছাড়া দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধান সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় হয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করেছেন। প্রথমে আমাদের ডেকেছেন আজকে সম্ভবত আওয়ামী লীগ যাচ্ছে। এখন শেষ পর্যন্ত কি করবেন তার ওপরে নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যত। বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করা ভেতর এবং গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচন করার মধ্যে। একটি দল তথাকথিত উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে তা হতে পারে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতিহাস কাউকে কখনও ক্ষমা করেনি। আজকে যারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে ধ্বংস করছে, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে তাদের কাউকে এদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।’

জঙ্গি ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা চাই যারা জঙ্গিবাদে উস্কানি দিচ্ছে সত্যিকার অর্থে তাদের বিচার করা হউক। সেটা আপনারা (আওয়ামী লীগ) করছেন না। বরং যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত বলে গ্রেফতার হচ্ছে তাদের ক্রসফায়ারে হত্যা করে দিচ্ছেন। কোনো তদন্ত হচ্ছে না। সম্ভবত এ কারণেই জানা যাচ্ছে না যদি এটি সঠিক তদন্ত হয় তাহলে আপনাদের মুখের চেহারা বদলে যাবে, মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাবে- তাই নয় কি?’

১/১১ সরকারের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা এখনও চলছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন ফখরুল।