Primenewsbd
নির্বাচনের আগে ভারত সফরে দেনা পাওনার হিসাব নিকাশ
Tuesday, 12 Jun 2018 23:20 pm
Reporter :
Primenewsbd

Primenewsbd

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদিনের সফরে গত ২৫ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান। সফর শেষে পরের দিন রাতে দেশে ফিরেছেন তিনি। নির্বাচনের বছর হওয়ায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরকে ঘিরে দেশবাসীর বাড়তি কৌতূহল ছিল। সেই সাথে দীর্ঘকাল ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশা ছিল অনেকের। যদিও এবারের সফরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। তারপরও তিস্তা চুক্তিসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ভারত সরকার কী মনোভাব দেখায়- তা নিয়ে আলোচনার কমতি ছিল না। সেই সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ফের ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু বরাবরের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। সফরকালে পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন, শান্তিনিকেতনে একটি সমাবর্তনে অংশগ্রহণসহ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা। চুরুলিয়ায় কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি পেয়েছেন তিনি। যা সমস্ত বাঙালির জন্য উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এ সবের বাইরে দুদেশের গণমাধ্যমের দৃষ্টি ছিল একান্ত কথা বা একান্ত বৈঠকের দিকে। আগামী নির্বাচনে মোদী সরকার আওয়ামী লীগকে কী ধরনের সহযোগিতা দিতে চায়, তিস্তা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান কী? বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকটে ভারতের ভূমিকা বদলাচ্ছে কি না? একান্তে এসব নিয়ে কী কথা হয়েছে? তা জানার আগ্রহ রাজনৈতিক সচেতন মহলের। যদিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মমতাকে এড়িয়ে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দুদেশের নেতাদের একান্ত বৈঠকের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য কোনো পক্ষ থেকে আসেনি। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সবের মধ্যেই ৩০ মে গণভবনে সফরের খুঁটিনাটি তুলে ধরতে বরাবরের মতো সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নেরও জবাব দেন। তবে প্রবীণ এক সাংবাদিকের নোবেল পুরস্কার পেতে করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া বক্তব্য বিভিন্ন মহলে অস্বস্তি তৈরি করে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে এরই মধ্যে বেশ আলোচনা-সমালোচনাও শুরু হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম শেখ হাসিনার সফরে একান্ত বৈঠক ও বৈঠকে আলোচনার ইস্যু প্রসঙ্গে যে প্রতিবেদন ছেপেছে, তা দেশের রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে আনন্দবাজার ও এনডিটিভির প্রতিবেদন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ভারতের অন্য গণমাধ্যমগুলোর সংবাদও ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের জন্য বিব্রতকর। যার প্রেক্ষিতে বিএনপিসহ বিরোধী ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সমালোচনায় নতুন ইস্যু পেয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরেও তিস্তায় পানি আনার চুক্তি করতে না পারাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, ‘ভারতকে খুশি রাখতে একতরফাভাবে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সব কিছু দিয়ে গেছে। কিন্তু তিস্তার পানি আনা বা রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সমর্থন আদায় করতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বরং সবকিছুর বিনিময়ে আওয়ামী লীগ যেনতেনভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে। যা দেশের গণমাধ্যম সাহস করে প্রকাশ না করলেও ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।’ এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অপমাণ ও লজ্জার বিষয় বলেও মন্তব্য করছে বিএনপি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ভারত সফরের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
‘ভারত আমাকে ক্ষমতায় আনবে কিনা জানি না’
দু’দিনের ভারত সফরের অর্জন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ মে বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য দেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল ‘বিএনপি বলছে- আপনি ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বারবার ভারত সফর করছেন’। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটাই স্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, ‘শুধু কি আমি সফর করছি? কেন, খালেদা জিয়াও তো ভারত সফর করেছেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যে ভারত সফর করেছেন। তারা কেন গিয়েছিলেন?’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারত আমাকে ক্ষমতায় আনবে কিনা জানি না। তবে আমি ভারতকে যা দিয়েছি তা তাদের সারা জীবন মনে রাখতে হবে। আমি ভারতে শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিদান চাই না। আমার চাওয়ার অভ্যাস কম, দেওয়ার অভ্যাস বেশি। দিতে পছন্দ করি। ভারতকে যা দিয়েছি সেটি তারা সারা জীবন মনে রাখবে।’ ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা আনন্দবাজারে প্রকাশিত সংবাদ ‘মোদীর কাছে প্রতিদান চান হাসিনা’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন পত্রিকা এসব নিউজ করেছে, তা আমি জানি না। আমি কারো কাছে কোনো প্রতিদান চাই না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ভারত গিয়েছি ক্ষমতায় আসতে এটি তো বলবেই। ২০০১ সালে ভারত ও আমেরিকা আমাকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশের মানুষের ৫০ বছরের গ্যাস থাকলে তখন দিব। কী পরিমাণ আছে, তা তো আমি জানি না। আমি তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। আমার সঙ্গে জিল্লুর রহমান ছিলেন। আমি এ কথা বলে চলে এসেছিলাম। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তাদের তখনকার মহাসচিব মান্নান ভূইয়া থেকে যায়। তারা মুচলেকা দিয়েছিল ক্ষমতায় গেলে গ্যাস বিক্রি করবে। ক্ষমতায় এসে গ্যাস পায়নি, দিতেও পারেনি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় আসার জন্য মুচলেকা দেয় আমি সেই দলের না।’
তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তিস্তা নিয়ে আলোচনা করতে এই সফরে যাইনি। বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। সেটাকেই গুরুত্ব দিয়েছি। তারপরও তিস্তা নিয়ে আলোচনা করেছি। বলা হয়, আমি ভারত থেকে এক বালতি পানিও নাকি আনতে পারিনি। তাহলে রিজভীর (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব) জন্য তো এক বালতি পানি পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। কারে দিয়ে পাঠানো যায়...।’ নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন, তার ক্ষমতা ও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে তিস্তা চুক্তি হবে, মোদীর সেই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কারো ওপর ভরসা করি না। আমাদের পানি সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সেজন্য নদী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছি।’
গোলাম সারওয়ারের পরামর্শে বিব্রত প্রধানমন্ত্রী
প্রশ্নোত্তরপর্বে দাঁড়িয়ে দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা মিডিয়া সরকারের মাদকবিরোধী এই অভিযান (বন্দুকযুদ্ধ) সমর্থন করি, একেবারে মনে প্রাণেই সমর্থন করি।  মানবাধিকারের কিছু বিষয় লিখতে হয়, তাই লিখছি’। এসময় ভারতের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘যে পুরস্কারটি আপনি প্রাপ্য হয়েছেন, সেটা আপনি পাননি। নোবেল শান্তি পুরস্কার।’  ‘এসব পুরস্কার নয়, আপনার এখন একটাই পুরস্কার পাওয়া উচিত, নোবেল পুরস্কার। আর এখনই সময় এ নিয়ে কাজ করার।’ তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তার (গোলাম সারওয়ার) কথার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার নোবেল পুরস্কারের কোনো প্রয়োজন নেই।’ এসময় গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘আপা (প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে) একটু বলি।’ এরপর শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়ে গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘কিন্তু আমি বলি, আপনি প্রাপ্যতা অর্জন করেছেন। এই পুরস্কার কিন্তু একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে আগায়। আপনি চান কি না চান, সেটা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। এটা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। লবিস্ট আছে, নানাভাবে। এখনই সময়টি চলছে। অনেক প্রক্রিয়া আছে। প্রক্রিয়াটা অনুসরণ না করলে হবে না। আমার আহ্বান থাকবে এখনই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করি। এই পুরস্কার এমনিতে আসবে না, কখনও আসবে না। আমার আহ্বান থাকবে এই প্রক্রিয়াটুকু আমরা শুরু করি।’ প্রবীণ সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের এমন তোষামোদী পরামর্শে প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। পেছনের দিকে উপস্থিত জুনিয়র সাংবাদিকরা অনেকে হাসাহাসি করতে থাকেন।
তবে সমকাল সম্পাদকের পরামর্শের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই ধরনের প্রক্রিয়া চালানোর কোনো প্রবৃত্তি আমার নাই। আর লবিস্ট রেখে পুরস্কার পাওয়া..., প্রথম কথা লবিস্ট রাখার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নাই। আর থাকলেও বা কেউ করলেও আমি সমর্থন করব না, করি না। আমার কাছে বহুবার পৃথিবীর বহু দেশ থেকে প্রস্তাব গেছে, আমি কোনোদিন কোনো চিন্তাও করিনি, চাইওনি। আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার বাংলাদেশের মানুষকে দুই বেলা পেট ভরে খেতে দিতে পারলাম কি না। তারা শান্তি পেল কি না, সেটাই বড় কথা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু গরিবের ওপর, অন্যের টাকা, সুদের টাকা নিয়ে নিজে অর্থ করে আবার ওই টাকায় লবিস্ট নিয়োগ করে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নাই।’ আন্তর্জাতিক নানা পুরস্কার ও ডিগ্রির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ পর্যন্ত যতগুলো পুরস্কার পেয়েছি, তার কোনোটার জন্য আমার কোনো চাহিদা ছিল না, লবিস্ট নিয়োগ করিনি, আমি চাইওনি, জানিও না। এখনও অনেক প্রস্তাব আছে আমার কাছে। আমি এর পেছনে ছুটিও না।’ চুরুলিয়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিড ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, নজরুলেরটায় গিয়েছি। এ কারণে যে, কবি নজরুল আমাদের কাছে আলাদা মর্যাদার। আমার অনেক ডিগ্রির মধ্যে এর সম্মান অনেক উঁচু। আর নোবেল প্রাইজ অর্জনের প্রক্রিয়া করার দরকার নাই।’
প্রধানমন্ত্রীর এমন জবাবের পর গোলাম সারওয়ারের মুখ কালো হয়ে যায়।
অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আশা
বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান হবে বলে আশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাখা বক্তব্যে এমন আশার কথা জানান তিনি। ২৫ মে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ এক হয়ে চলতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু একে একে আমরা সব সমস্যার সমাধান করেছি। এখনো কিছু কথা আছে। কিন্তু সে কথা এখন বলে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারব।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি মানবিক কারণে। এখন আমরা চাই তারা দ্রুত দেশে ফিরে যাক।’ এ সময় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আবারও ভারতের সহযোগিতা চান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবশেষে বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্র মোদী। মোদী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভারতের জন্য অনুকরণীয়। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে ভারত সব ধরনের সহযোগিতা ও পূর্ণ সমর্থন দেবে।’ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুবে বলেও আশা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করেননি মোদী।
মমতার সঙ্গে শেখ হাসিনার একান্ত বৈঠক
শেখ হাসিনার ভারত সফরের শেষ দিন পূর্ব নির্ধারিত ছাড়া একান্ত বৈঠক হয়েছে মমতার সঙ্গে। দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত হোটেল ‘তাজ বেঙ্গলে’ ২৬ মে সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। দুজনের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠক শেষে রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দু’দিনের ভারত সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের চোখ ও কান ছিল দুটো বৈঠকের দিকে। প্রথমটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর পরের বৈঠকটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কারণ আর কয়েক মাস পরেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে দু’পক্ষের মধ্যে কী ধরনের কথাবার্তা হয়- তা নিয়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। মোদীর সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে কী কথা হয়- সেসবই ছিল আগ্রহের কেন্দ্রে। এর বাইরে সবচে বড় আগ্রহ ছিল নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকার গ্রিন সিগন্যাল পান কিনা শেখ হাসিনা- সে বিষয়ে। শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনে কিছু একটা বলতে গিয়েও সেসব বলেননি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেদিন কিছু না বলেও তিনি যে অনেক কিছুই বলেছেন- সেটা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
নির্বাচনে মোদীর কাছে ‘প্রতিদান’ চান শেখ হাসিনা : আনন্দবাজার পত্রিকার শিরোনাম ছিল, “দিল্লির পাশে থেকেছে ঢাকা, মোদীর কাছে ‘প্রতিদান’ চান হাসিনা।” পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “দিয়েছেন অনেক, প্রতিদানে এবার ভারতের সহযোগিতা চান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫ মে শান্তিনিকেতনের ‘বাংলাদেশ ভবনে’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরে সেখানেই মোদীর সঙ্গে বৈঠকে হাসিনা জানিয়েছেন- তার সরকার উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে। ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই’।” কূটনৈতিক সূত্রের বরাদ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “মোদীকে শেখ হাসিনা বলেছেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড় করানো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের মতো এই কাজেও ভারতকে পাশে চান তিনি।” আনন্দবাজার লিখেছে, “১৯৭২-এর ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁন্ধীকে পাশে নিয়ে কলকাতার জনসভায় সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি। দেওয়ার কিছু নেই। শুধু বুক ভরা ভালবাসা জানাই ভারতের মানুষকে।’ ৪৬ বছর পরে শেখ হাসিনার বার্তা, তারা যা দিয়েছেন, ‘ভারত এবার তার প্রতিদান দিক’।” পত্রিকাটির দাবি, মোদীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি কী বলবেন, উপদেষ্টাদের সঙ্গে আগেই আলোচনা সেরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। “তার দফতরের এক সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার বার্তা- মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সরাতে, ‘বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চলছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে পশ্চিমে আর পূবে- দুদিকেই পাকিস্তান নিয়ে ঘর করতে হবে ভারতকে। তাই ভারতের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারই যাতে ক্ষমতায় ফেরে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।’ মোদীর জবাব জানা যায়নি।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “তবে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনের পরে বক্তৃতায় তিনি (মোদী) জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য পরিকাঠামো খাতে ৮০০ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছে দিল্লি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে ১১০০ মেগাওয়াট করা হবে। মহাকাশ প্রযুক্তিতেও সাহায্য করতে চায় দিল্লি। দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলোচনায় তিস্তা প্রসঙ্গ ওঠা স্বাভাবিক বলে অনেকেই মনে করেছেন। যদিও এ নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে তার আগে বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেক অর্জনের মধ্যে কিছু বকেয়াও রয়েছে, যা উল্লেখ করে এমন সুন্দর অনুষ্ঠানের অঙ্গহানি করতে চাই না আমি!’”
‘তিস্তায় নীরব শেখ হাসিনা, মোদী চুপ রোহিঙ্গায়’ : বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে ২৫ মে এক মঞ্চেই চার ঘণ্টা উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নীরবতাই যেন প্রবল হয়ে বাজল। একদিকে শেখ হাসিনা তিন্তা নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেননি। অন্যদিকে মোদীর মুখে ছিল না রোহিঙ্গা ইস্যু। ভারতের সংবাদভিত্তিক জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির এক অনলাইন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু আজও অমীমাংসিত। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। উত্তরবঙ্গের নদী থেকে বাংলাদেশ আরও বেশি পানি চায়। কিন্তু মমতা দিতে অনিচ্ছুক। তার মতে, বাংলাদেশকে পানি দিলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা ক্ষতিগ্রন্ত হবেন।’ এনডিটিভি বলছে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন।’ টেলিভিশনটির অনলাইন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘তিস্তা’ শব্দটি উচ্চারণ না করেও তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুটি তুলেছেন শেখ হাসিনা। তবে রোহিঙ্গা শব্দটি বারবার এসেছে তার মুখে। এনডিটিভি বলছে, “শেখ হাসিনার আগে বক্তব্য দেন মমতা। হিন্দু-মুসলিম সাম্য নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে উদ্বৃত করেছেন তিনি। তবে তিস্তা নিয়ে কোনো কথাই বলেননি। আর নরেন্দ্র মোদী তিস্তা, রোহিঙ্গা- কোনো ইস্যু নিয়েই কথা বলেননি। তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য শেখ হাসিনার। এই লক্ষ্য অর্জনে তাকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে ভারত।’
‘শেখ হাসিনার চাওয়া, মমতার বিবেচ্য’ : টাইমস অফ ইন্ডিয়ার শিরোনাম ছিল- ‘শেখ হাসিনা-মমতার আলোচনা, কিন্তু তিস্তার পানি ভাগাভাগির বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।’ কাগজটি লিখেছে, ‘হাসিনা চান ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে চুক্তিটি হয়ে যাক। মমতার দিক থেকেও কিছু বিবেচ্য বিষয় রয়েছে। উত্তরবঙ্গের যেসব জেলা কৃষির জন্যে তিস্তার পানির উপর নির্ভরশীল সেখানকার স্বার্থের কথাও মুখ্যমন্ত্রী ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এড়িয়ে যেতে পারেন না।’
‘বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন দুপক্ষই’ : দৈনিক বর্তমান পত্রিকাটির  শিরোনাম ছিল, ‘হাসিনা-মমতা বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন দুপক্ষই।’ বর্তমান লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শনিবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় একান্ত বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ওই বৈঠকে মমতা অংশ নিলেও কূটনৈতিক স্তরে তা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। আর সে কারণেই দক্ষিণ কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলের (শেখ হাসিনা যেখানে ছিলেন) ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। এতে আরও বলা হয়, “চলতি বছরের শেষে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে অবশ্যম্ভাবী ইস্যু হয়ে উঠেছে ‘তিস্তার পানি চুক্তি’। সেই চুক্তি রূপায়ণের ক্ষেত্রে একমাত্র মমতাই যে সহায়ক শক্তি, তা উপলব্ধি করেছেন বাংলাদেশের শাসকদল আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসা বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলের খবর, এদিনের আলাপচারিতায় সেই চুক্তি রূপায়ণে ‘সহায়ক’ হয়ে ওঠার জন্য খোদ ঢাকার তরফ থেকে অনুরোধ এসেছে মমতার কাছে।” প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে এবার অনেকটাই স্বার্থক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে মমতাকে। তবে বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ এসেছিল কি না, সে প্রশ্নের কোনো জবাব মেলেনি দু’পক্ষের কাছ থেকে।’ বর্তমান বলছে, “দুদিনের রাজ্য সফরের সূচিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক নির্ধারিত ছিল না। মমতার সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করতে চান শেখ হাসিনা, এই অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘দ্বারস্থ হয়’। বাংলাদেশের ওই অনুরোধে সাড়া দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। তারপরই ঠিক হয়, শনিবার (২৬ মে শেখ হাসিনা) দেশে ফেরার আগে সেই বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি।”
‘পরিবারের সবাইকে চিনি’ : সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকা লিখেছে, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা জানিয়ে মমতা উল্লেখ করেছেন ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে হাসিনা বিরোধী নেত্রী থাকাকালীনও সম্পর্ক ভালো ছিল। পরিবারের সবাইকে চিনি।’ তিনি বলেন, ‘আবার আসার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরাও চাই ওঁরা আসুক। আমাকেও সবসময় যেতে বলে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভালবাসে। ওঁকেও আমি ভালবাসি।’
সুষমা যা বললেন
বহুপ্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের প্রশ্নে দিল্লি যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অগ্রাহ্য করে কিছুতেই এগোবে না, সেটা আবারও জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। নরেন্দ্র মোদী সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে তার বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ আরও জানিয়েছেন, গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য দু-তিনটি নদীর পানি ভাগাভাগির যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভারত মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে কখনো এমন অভিযোগ তাদের শুনতে হয়নি বলেও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমটির অনলাইন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাধায় বহুপ্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি আজও হতে পারেনি, তাদের অগ্রাহ্য করে কেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না- এ প্রসেঙ্গ সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ‘ভারতের কেন্দ্রীয় কাঠামোতে সেটা কিছুতেই সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি শুধু ভারত-বাংলাদেশ এই দুই সরকারের বিষয় নয়- পশ্চিমবঙ্গও সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। সেই কারণে আমরা বারবার মমতার সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।’ ‘তিনি গত বছর শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা ছিল তিস্তা বাদ দিয়ে অন্য দু-তিনটে নদী (ধরলা, জলঢাকা, শিলতোর্সা ইত্যাদি) থেকে একই পরিমাণ পানি বাংলাদেশে পাঠানো, তাতে তারা পানিও পাবে, তিস্তাও বাঁচবে।’ সুষমার দাবি, ‘এখন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে। কিন্তু আমরা সেই রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। তবে আমি এটাও বলব, আমাদের সরকারের মেয়াদের তো পুরো এক বছর এখনও বাকি, আমাদের আগেই ফেল করিয়ে দিচ্ছেন কেন? এক বছর বাকি থাকতেই আমাদের ব্যর্থ ঘোষণা- না করে একটু ধৈর্য্য ধরুন, আমরা তিস্তা চুক্তির পেছনে লেগে আছি।’
তবে গত ২৫ ও ২৬ মে যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদী ও মমতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা একান্ত বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে- তা নিয়ে অবশ্য সুষমা স্বরাজ মুখ খুলতে চাননি। শেখ হাসিনা ও তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই তিস্তা চুক্তি হবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী যে কথা দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যাবে কি না সেটা অনেকটাই ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। প্রকারান্তরে সুষমা স্বরাজ সেটা মেনেই নিয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়। বিবিসি বলছে, মিয়ানমার যাতে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের চেষ্টায় আন্তরিক থাকে, সেজন্য ভারত কোনো প্রভাব খাটাবে কি না- এমন প্রশ্নে সুষমা স্বরাজ কোনো জবাব দেননি।
(সাপ্তাহকি শীর্ষকাগজে ০৪ জুন ২০১৮ প্রকাশিত)