Primenewsbd
বিশ্বে ইসলামবিদ্বেষীদের সক্রিয়তা বাড়ছে, ৭ দেশে হিজাব-নিকাব পরা ‘ফৌজদারি অপরাধ’
Thursday, 12 Jul 2018 13:57 pm
Reporter :
Primenewsbd

Primenewsbd

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সাম্প্রতিককালে বিশ্বে ইসলামের পুনর্জাগরণের পাশাপাশি ইসলামবিদ্বেষীদের সক্রিয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলাম বিদ্বেষীদের ভূমিকা চোখে পড়ার মত। তারা সাধারণ জনগণের পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রকেও বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে।

এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিশ্বের ৭টি দেশ মুখ ঢেকে রাখা তথা হিজাব-নিকাব পরাকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এর উপর নিধেষাজ্ঞা করে।

এসব দেশে মুসলিম মহিলাদের ইসলামিক পরিধেয় বস্ত্রের উপর কিছু না কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এ নিয়ে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নেদারল্যান্ড
নেদারল্যান্ড নামক ইউরোপীয় দেশটি মুখ ঢেকে রাখা তথা নিকাব উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কারী সর্বশেষ স্থান। একইভাবে তারা এটিকে একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এই আইন অনুযায়ী, যে কেউ বোরকা(একটি ইসলামি শরীয়া সম্মত পোশাক) পরবে- যেটি তার পুরো মুখ এবং শরীর ঢেকে রাখে বা নিকাব (একটি মুখে পরিধানযোগ্য ইসলামিক পোশাক) যেটি জনসমাগম স্থানে শুধুমাত্র মুখ ঢেকে রাখে সে ব্যক্তিকে ৪৫০ ইউরো বা ৪৭২ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে।

সুইজারল্যান্ড
১ জুলাই ২০১৬ পুরো মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা যেটা বোরকার মত তা পরিধান করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী টিচিনো নামক ইটালিয়ান ভাষাভাষীর একটি স্থান যেটি দক্ষিণ সুইজল্যান্ডে অবস্থিত সেখানকার মুসলিম মহিলারা ৯,২০০ ইউরো জরিমানার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

সমালোচনা সত্তেও Le Matin Dimanche এবং SonntagsZeitung নামক পত্রিকা দুটি সম্প্রতি একটি অনলাইন জরীপ চালায় যেখানে দেখা যায় অধিকাংশ সুইস নাগরিক সমগ্র দেশে জনসমাগম স্থানে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা চায়।

জরীপকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করে- ১,১৬৭ জন মানুষের উপর করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা জারিকে ‘আবশ্যক’ মনে করেন, ১৬ শতাংশ মানুষ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে এতে কোনো ‘সন্দেহ নই’ বলে মত দেন, ২০ শতাংশ মানুষ নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে মত দেন এবং ৩ শতাংশ মানুষের এই ব্যাপারে কোনো মত নেই বলে জানান।

বেলজিয়াম
২০১১ সালে বেলজিয়াম মুখ ঢেকে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ আইন অনুযায়ী যে কেউ পর্দা বা এমন পোশাক যা জনসমাগম স্থানে মানুষের মুখ ঢেকে রাখে বা মুখ চিনতে কষ্ট হয় এমন পোশাক পরিধান করে সে ব্যক্তি সাত দিনের কারাবাস অথবা ১,৩৭৮ ইউরো জরীমানার সম্মুখীন হবেন।

স্পেন
এখানে উল্লেখ করা দরকার, উত্তর-পূর্ব স্পেনের কাতালোনিয়া নামক স্থানের কিছু অংশে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৩ সালে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এই আইনকে উঠিয়ে দেয় এবং মতামত প্রদান করেন যে, ‘এটি ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সীমিত করবে’। তবে কিছু কিছু অঞ্চলে এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ফ্রান্স
ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইতিহাস গড়েছিল। এটা হয়েছিল ২০১১ সালে। এ আইন অনুসারে কোনো মহিলা যদি এই আইন ভঙ্গ করে তবে তাকে ১৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে এবং যদি কেউ কোনো মহিলাকে তার মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করে তবে তাকে ৩০,০০০ ইউরো জরিমানা করা হবে।

চাদ
এই তালিকার অন্যান্য দেশর মত, ২০১৫ সালের জুন মাসে সেখানে পর পর দুইবার আত্নগাতী বোমা হামলার দুই দিন পরেই মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা নিষিদ্ধ করে।

উক্ত হামলার পরেই, দেশটির প্রধানমন্ত্রী কালজেউব ফাহিমি ডেউবেট রোরকা পুড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এটি পরার দণ্ড হিসেবে গ্রেপ্তার অথবা কারাবাস এর আইন করা হয়।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ক্যামেরুনও মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা পরিধান নিষিদ্ধ করেছে।