Primenewsbd
বিয়ের কিছুদিন পরই রোমান্স শেষ?
Tuesday, 11 Sep 2018 10:28 am
Reporter :
Primenewsbd

Primenewsbd

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বিয়ের কিছুদিন পরই অনেকের জীবনে ক্লান্তি নেমে আসে। তারা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না পরস্পরের সঙ্গে ঠিক কী করলে সময় কাটবে! ছুটি থাকলেও একজন বইয়ে মুখ গুঁজে দিন কাটিয়ে দেয় তো অন্যজন ব্যস্ত থাকে ল্যাপটপ নিয়ে। সমস্যা হচ্ছে, আজকাল এমন দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে। এসবরে মধ্যে ঢুকে পড়তে পারেন তৃতীয় কোনও ব্যক্তি, থাবা বসাতে পারে নেশা বা ডিপ্রেশন। যদি আপনার বিয়েটাকে টিকিয়ে রাখার আগ্রহ থাকে, তা হলে এখনই সচেতন হোন এবং সম্পর্কের ফাঁকফোকর বুজিয়ে নতুন করে শুরু করার প্রচেষ্টা আরম্ভ করুন-

সাবধানতা: পথ বন্ধুর
ফিনল্যান্ডের তুরকু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় প্রকাশ, যে সব মহিলা দীর্ঘদিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছেন, তাঁদের বিশেষ করে বিয়ের সপ্তম বছরে পৌঁছনোর পর যৌন ইচ্ছা খুব দ্রুত গতিতে কমতে থাকে। বিয়ের প্রথম বছরে যৌনতার প্রতি যতটা আগ্রহ থাকে, সপ্তম বছরে গিয়ে তার পরিমাণ অন্তত ৫৩ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু ওই সাত বছরের মধ্যে যাঁরা দ্বিতীয় সম্পর্কে জড়িয়েছেন বা সিঙ্গল থেকেছেন, তাঁদের লিবিডো রয়ে যায় আগের মতোই। কাপল থেরাপিস্ট অজন্তা দে বলছেন, ‘‘তথ্য দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে বিয়ের চতুর্থ বছরেই অধিকাংশ ডিভোর্স হয়। যাঁরা লিভ-ইন করেন, তাঁদের অধিকাংশের মধ্যেও প্রথম কয়েক বছরের পর একটা ক্লান্তিবোধ চলে আসে, বাড়ে ঝগড়াঝাঁটি, অপরের খুঁত চোখে পড়ে। সন্তানের জন্মের পরও একে অপরের প্রতি আগ্রহ কমে।’’

কী দেখে বুঝবেন সমস্যা হচ্ছে
সাধারণত বিবাহিত সম্পর্কে মেয়েদের উপর অনেক বেশি দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে, তাঁদের সংসার এবং সন্তান নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়, ফলে তাঁরা পুরুষসঙ্গীর প্রতি আগের মতো মনোযোগী থাকতে পারেন না। যে সব দম্পতি এই সমস্যাটা বুঝতে পারেন, তাঁদের নিজেদের মধ্যে সমস্যাও কম হয়। মনোবিদ ডা. জ্যোতির্ময় সমাজদার বলছেন, ‘‘দেখবেন, যে সব দম্পতির সংসারের বাইরেও একটা ব্যস্ত জীবন আছে, কর্মক্ষেত্রেও তাঁরা মোটামুটি সফল এবং পরস্পরের বাইরেও অনেক বন্ধুবান্ধব আছেন, তাঁদের সাধারণত এই সব সমস্যা হয় না। আমি সকলকে পরামর্শ দিই যে ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু একটা করুন, যা আপনাকে পূর্ণতা দেবে। তা হলেই আপনি সব সম্পর্কে সাফল্য পাবেন।”
কথাবার্তা হয় না
যে কোনও সম্পর্কেই সমস্যার সূত্রপাত হয় মানসিক আদানপ্রদান বন্ধ হয়ে গেলে। এমন হতেই পারে যে আপনার স্বামীর অফিসে সত্যিই কাজের চাপ খুব বেশি বলে তিনি সময়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া হচ্ছে না দিনের পর দিন, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সময়ও নেই… কিন্তু খুব বেশিদিন এমনটা চলতে থাকলে সম্পর্কে তার ছাপ পড়তে বাধ্য। এই পরিস্থিতিতে আগেই তাঁকে সন্দেহ না করে বোঝার চেষ্টা করুন কেন এমনটা হচ্ছে।

যৌন সম্পর্কে জটিলতা
অনেক সময়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই খুব সফল পেশাদার হন এবং তাঁরা ব্যস্ততার জন্য কাছাকাছি আসতে পারেন না বলে একটা ক্রাইসিস তৈরি হয়। কিন্তু একজন সফল আর অন্যজনের কেবল সন্তান বা সংসার ছাড়া অন্য কোনও অ্যাটাচমেন্ট নেই, এই পরিস্থিতিতে সমস্যাটা তীব্র হয়ে ওঠে। কেরিয়ারের পাশাপাশি সন্তানপালনের তীব্র চাপ থাকলে অনেক সময়েই যৌন জীবনে ঘাটতি আসে, তাতে অপরাধবোধ আর ফ্রাস্ট্রেশনের তীব্রতা বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনও সম্পর্কে ভুল করে জড়িয়ে পড়াটাও বিচিত্র নয়। কারণ কেউ দুটো ভালো কথা বললে বা অ্যাটেনশন দিলেই তাঁর প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়। কিছুদিনের মধ্যে ভুলটা ধরা পড়লে জটিলতা আরও বাড়ে।

চরিত্রে পরিবর্তন
টুকটাক বিষয় নিয়ে বারংবার মতান্তর হওয়া বা হঠাৎ করেই চরিত্রগত পরিবর্তন আসাটাও কিন্তু চিন্তার বিষয়। ডা. সমাজদার বলছেন, ‘‘অনেক সময় দেখেছি, জীবনের বেশিরভাগটাই খুব গুছিয়ে কাটানোর পর দম্পতির একজন হয়তো হঠাৎই প্রচুর পয়সাকড়ি খরচ করতে আরম্ভ করলেন। রোজ শপিং করাটাও আসলে নিজের জীবনের ফাঁকগুলোকে ভরিয়ে তোলার একটা চেষ্টা।”

সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করুন
প্রতিকারের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলা। প্রত্যেক মানুষকেই যে চাকরি করতে হবে বা সফল পেশাদার হতে হবে তা বলছি না। এমন কিছু একটা করুন যেটা আপনাকে ভরিয়ে রাখে। বাচ্চাদের পড়াতে পারেন, এমন কিছু একটা শিখতে পারেন যেটা এতদিন স্রেফ সময়ের অভাবে হয়ে ওঠেনি। কেবল সংসার আর সন্তান আঁকড়ে পড়ে থাকলে কিন্তু যে কোনও মুহূর্তে ক্লান্তি থাবা বসাবে।

মনস্তত্ত্ববিদেরা বলেন সম্পর্ক ঠিক পথে না এগোলে মহিলাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়েই আগে ধরা পড়ে। যদি বুঝতে পারেন, সম্পর্কে কোনও না কোনও সমস্যা আছে, তা হলে পেশাদারের দ্বারস্থ হোন, তার পর পরামর্শমতো অপরজনকে বুঝিয়ে বলবেন বা সমাধানের চেষ্টা করবেন। অনেক সময় কথা বলেই সমস্যার সমাধান করা যায়। সেটা একান্ত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ালে দু’জনকেই কাউন্সেলিং করাতে হতে পারে। আজকাল অনেক দম্পতিই, বিশেষ করে অল্পবয়সিরা আর সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন না, সমস্যা শুরু হলেই বিচ্ছেদের কথা ভাবেন। সেটাও কোনও সমাধান নয়। মনে রাখবেন, যে কোনও লং-টার্ম সম্পর্কেই এই সমস্যাগুলো হয়, ইচ্ছে থাকলে সেটা কাটিয়ে আবার নতুন করে শুরুও করা যায়। কিন্তু ডিভোর্সের রাস্তা বেছে নেওয়াটা কাজের কথা নয়। পরের সম্পর্কে যে আবার এই সমস্যা হবে না, তার গ্যারান্টি নেই কিন্তু!

সূত্র : ফেমিনা