রবিবার, ২১ জানুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৯ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৮:২৫:৪২

নির্বাচন নিয়ে আবারো কি আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি?

নির্বাচন নিয়ে আবারো কি আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি?

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে সরগরম থাকবে ২০১৮ সাল।

বিএনপি বলছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি মানা না হলে আবারো আন্দোলনের পথেই হাঁটবেন তারা।

তবে নির্বাচনকালীন নতুন কোন নিরপেক্ষ সরকারের ধারণা আবারও উড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে।

২০১৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত আর বিরোধী দল ছাড়াই সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠান-দুটো নিয়েই এখনো সমালোচনা আছে রাজনৈতিক মহলে।

সেসময় যেসব ইস্যুতে টালমাটাল হয়ে উঠেছিলো রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এবারো সেই পুরনো ইস্যুগুলোই নতুন করে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, কিভাবে এবং কাদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে, নির্বাচনের সময় সংসদ থাকবে না-কি ভেঙ্গে দেয়া হবে, এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে কি-না, হলে কিভাবে হবে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করার উপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু।

বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছে, ''আমাদের দাবি পরিষ্কার। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না, পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচন হতে পারে না। একটি সংসদ থাকবে, সংসদ সদস্যরা সরকারি প্রটোকল নিয়ে নির্বাচন করবে। আর একজন সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, মন্ত্রীরা মন্ত্রী থাকবে, এটা কখনো সমতল ভূমি হতে পারে না।''

বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রথম ৪টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে সময়কার ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর অধীনে। যার ৩টিই ছিলো সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার।

তবে ১৯৯১ সালের নির্বাচনটি করে সব দলের ঐকমত্যে গঠিত একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

১৯৯৬ সাল থেকে পরপর ৩টি নির্বাচন হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

২০১১ সালে সংবিধানে সংশোধনী এনে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধানে ফিরে যায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সে নির্বাচন বর্জন করার পর এখন বিভিন্ন মহল থেকে সব দলকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ আছে সরকারের উপর।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে, তা নিয়ে সরকারের অবস্থানে কোন পরিবর্তন এসেছে কি?

"আমাদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যেই যে নির্বাচন হবে, বর্তমান সরকার সেই নির্বাচনকালীন সময়ে ক্ষমতায় থাকবে। তারা দৈনন্দিন কাজ করবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করবে, যেরকম অন্যান্য দেশেও হয়। এখানে যদি বিএনপি নির্বাচনে না আসে তাহলে আমাদের তো কিছু করার নেই। নির্বাচন হবেই এবং সেই নির্বাচন হবে সংবিধানের ভিত্তিতে। এর বাইরে ক্ষমতাসীন দল বা আমাদের জোট যাবে না।" বলছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লাগাতার হরতাল-অবরোধসহ আন্দোলনের নানা কর্মসূচি দিয়েছিলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

দাবি পূরণ না হলে এবারো দলটির নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আন্দোলনের কথাই বলছেন।

তবে এবার তত্ত্বাবধায়কের বদলে সহায়ক সরকারের কথা বলছেন দলটির নেতারা। কিন্তু এ নিয়ে সুস্পষ্ট কোন রূপরেখা এখনো ঘোষণা করেনি বিএনপি।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, "আমরা একটি নাম বলেছি যে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ একটি সহায়ক সরকার। যে নামেই হোক না কেন, মূল কথাটা হচ্ছে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকারের রূপরেখা আমরা দেব, আমাদের নেত্রী উপযুক্ত সময়ে এই রূপরেখা দেবেন। সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা এই রূপরেখা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো এবং এই জনগণকে নিয়েই আমরা আগামি নির্বাচনের সময় পর্যন্ত থাকতে চাই। যদি সরকার ২০১৪ সালের পথে হাটে তাহলে জনগণ রাস্তায় নেমে তাদের ভোটের অধিকার আদায় করবে।"

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের আন্দোলনে দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এবারো পরিস্থিতি সেদিকে গড়াবে কি-না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে নাগরিকদের মধ্যে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। এদের মধ্যে রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক বলছিলেন, "কী করা উচিত, তা সবপক্ষই জানে। আশা করি এবার সব দলই এটা ভাববে।"

রাজধানীর সূত্রাপুর থেকে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন এক নারী। তিনি বললেন, "গতবার যা হয়েছে, তাতে মানুষের অনেক ক্ষতি হয়েছে। দলে দলে যে বিবাদ, সেটা যেন এবার না থাকে। আমরা শান্তিপূর্ণ ভোট চাই।"

"আমাদের দেশে যখনই কেউ বিরোধী দলে থাকে, তার সামনে তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে না। অতএব এবার সেগুলোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে সেগুলো বলতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে যেন নির্বাচন হয়, সবাই যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে তার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে সেগুলো যদি সবার কাছে প্রতীয়মান হয় তাহলে তো আর অত সমস্যা থাকে না। আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।"

তবে আলোচনা-সমঝোতা নিয়ে এখনো বিপরীত মেরুতে প্রধান দুই দল। বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছিলেন,

"আমরা যদি সমঝোতায় আসতে পারি তাহলে সংবিধান এখানে কোন বাধা না। আমরা যে কোন সময় আলোচনা করতে প্রস্তুত।"

তবে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বললেন, "আলোচনা করবো কি জন্য ? তারা এসে আলোচনার টেবিলে বলবে আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিন। আমরা বলছি যে, না এটা সম্ভব না। তারা বলবে সহায়ক সরকার দিন। সহায়ক সরকার নিয়ে পৃথিবীতে কোন দৃষ্টান্ত আমরা দেখি নাই। সংবিধান আছে, সংবিধানে যা আছে তার ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে।"

এমন অবস্থায় দুই দল তাদের বর্তমান অবস্থানেই অনড় থাকবে নাকি নতুন কোন অবস্থানে যাবে, আশা করা যায় তা স্পষ্ট হতে শুরু করবে আসছে দিনগুলোতে।বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মতবিরোধের দৃষ্টান্ত যেমন আছে, তেমনি ঐকমত্যের উদাহরণও আছে। প্রধান দুই দল আলোচনায় বসলে চলমান বিরোধেরও নিরসন সম্ভব বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড রওনক জাহান। সূত্র: বিবিসি

আজকের প্রশ্ন

শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জাতির জন্য এমন পরামর্শ ভয়ানক নয় কি?