বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ০১:৩২:৪১

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টেনশন নেই আওয়ামী লীগের। ফুরফুরে মেজাজে আছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। রাজনৈতিক অবস্থা মাঠে যাই হোক ক্ষমতার চেয়ার ছাড়তে নারাজ দলের তৃনমুলের নেতাকর্মিরা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হ্যাট্রিক সরকার গঠনের প্রত্যাশা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে সরকার ও দল।

সবাই তাকিয়ে আছেন দলের হাইকমান্ডের দিকে। তিনি কি দিকনির্দেশনা দেন। মাঠের সাংগঠনিক অবস্থা হ-য-ব-র-ল বলা হলেও হাইকমান্ডের এক নির্দেশেই তা ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

দলের একাধিক অভিজ্ঞ নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে ক্ষমতায় ফিরে আসতে ঐক্যের বিকল্প নেই। দলের তৃনমুলে অভ্যন্তরিন বিরোধ দেখা দিলেও রাজনীতির মাঠ আওয়ামী লীগের দখলেই আছে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা যাতে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে জড়াতে না পারে সেজন্য কঠোর নজরদারী করবেন দলের হাইকমান্ড। এজন্য এলাকায় এলাকায় সাংগঠনিক কমিটিকে মনিটরিং করার দায়িত্বও দেয়া হতে পারে।

দলীয় সুত্র জানায়, দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের যেসব নেতাকর্মি বিরোধীতা করবে কেন্দ্র থেকে গঠিত মনিটরিং কমিটি তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াসহ তাদেরকে এলাকার শান্তিবিনষ্টকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনী পদক্ষেপও নিতে পারে। একাদশ নির্বাচনে জয় পেতে এসব ব্যবস্থা সামনে আসছে।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সুত্র জানায় জাতীয় নির্বানকে সামনে রেখে দু ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। নেতারা বলেন, সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ নিলে ক্ষমতাসীন দলের অর্ধশতাধিক নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর রদবদল আসবে।
দলীয় মনোনয়নে অনেকগুলো নতুন মুখ যুক্ত হবে। এর মধ্যে কোন কোন নির্বাচনী এলাকায় নারীরাও মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়নে চমকও থাকতে পারে। সবমিলিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিন্নমাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের হাইকমান্ড।

দলের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে এমন নেতাকর্মিদের যথাযোগ্য মর্যাদা-মূল্যায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিগত নির্বাচনগুলোতে অনেক প্রবীন-নবীনদের দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। মন্ত্রী-উপদেষ্টাও করেছেন। সন্মানীত পুরস্কার হিসেবে যেমন অনেক প্রবীন নেতাকে মন্ত্রী-এমপি করেছেন। তেমনী অনেকের ছেলে-মেয়েরাও বাবার রাজনৈতিক ফসলের পুরস্কার পেয়েছেন।

এটি অব্যহত রাখতেই আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। তবে জনপ্রিয়তা হারানো কিংবা জনবিচ্ছিন্ন কাউকে দলীয় মনোনয়ন এবার দেবে না দলের হাইকমান্ড। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও একাদশ নির্বাচন সংবিধানের বাধ্যকতা অনুসরন করেই যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকার নয়, শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ঠেকাতে নানা চক্রান্ত ষড়ন্ত্রের অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোন ফর্মুলা দিয়ে বা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতাও কারো নেই। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনী মাঠে যারা ফাউল করবে,জনগণ তাদের লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেবে।

দলীয় সুত্র আরো জানায়, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য রয়েছে। কাজেই আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ নিয়েও মাথা ব্যথা নেই কেন্দ্রীয় নেতাদের। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা সব নির্বাচনেই থাকে। আগামী নির্বাচনেও থাকবে। নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়লাভের জন্যই লড়তে হবে। এ নিয়ে সময় নষ্ট করতে চায় না দলের নীতিনির্ধারকরা।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধরকরা মনে করেন দেশ পরিচালনায়  দক্ষ রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবেও সফলতা অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সাথে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া নিয়েও কুটনৈতিক সফলতাও অর্জন করেছেন তিনি। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয়ের বিকল্প নেই। সরকার পরিচালনায় শেখ হাসিনারও বিকল্প নেই। তারা মনে করেন যেসব সংসদ সদস্য জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবেনা।

রাজনীতির মাঠ যেহেতু আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে তাই আগামী নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে দলের কোন অসুবিধা হবে না। তবে জোটের ভোট আর ভোটের জোটের অংকটা ঠিক মত করতে হবে। জনগণের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থীই আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী নেতা জানান, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ও তার ছেলে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া একরম অশ্চিত বলেই  নির্বাচন ভুন্ডুলের ষড়যন্ত্র করতে পারে বিএনপি। বিএনপি যাতে নির্বাচন ভুন্ডুল করতে না পারে সেজন্য দলের কেন্দ্র থেকে তৃনমুল নেতাকর্মিরা সজাগ রয়েছেন। একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের প্রশাসনও তার আইনি কাঠামোতে এগিয়ে যাবে।
 

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?