বুধবার, ২৩ মে ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮, ১২:৫০:৫৫

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যারা

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যারা

ঢাকা: জাতির জনকের হাতে গড়া আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন শুরু হবে বিকেল ৩টায়। উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল বুধবার (৯ মে) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এবার ছাত্রলীগকে ইতিহাসের সেরা সফল সম্মেলন উপহার দেব। এ সম্মেলনে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবে।’

সোহাগ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উদ্বোধন করার পর শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তৃতার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন ১২ মে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃবৃন্দের নাম ঘোষণা করা হবে। এবং একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতাদের নামও ঘোষণা হতে পারে।’

কেমন নেতৃত্ব আসবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রলীগের আগামী দিনের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আনা হবে না। মেধাবী, পরিশ্রমী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিকরাই নেতৃত্বে আসবে।’

নেতৃত্ব নিয়ে সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকবে কি-না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেট শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় শুনেছি। ছাত্রলীগে এই শব্দটি কিভাবে এসেছে তা আমার জানা নাই। আমরা প্রতিটি কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই করার চেষ্টা করেছি। এবং ভবিষ্যতে তাঁর পরামর্শেই সব কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।’

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান করছেন। সম্মেলনে যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, মেধা, চরিত্র এসব বিবেচনায় নিয়ে জীবনবৃত্তান্ত দেখে ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেতা বানানো হবে বলে জানা যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে দলে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারেও কঠোর থাকার নির্দেশনা রয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে।

ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- পারিবারিক পরিচিতি, নিয়মিত ছাত্রত্ব, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও আঞ্চলিক সমীকরণ।

সে হিসেবে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি এলাকার বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চল, উত্তরবঙ্গ অঞ্চল, বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চল থেকেও নেতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নেতৃত্বের প্রত্যাশার দৌড়ঝাঁপে যারা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে-

চট্টগ্রাম অঞ্চল
চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ-সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, সহ-সম্পাদক জায়েদ বিন জলিল, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ-সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক এইচ এম তাজউদ্দিন, এস এম হলের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, স্যার এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার।

উত্তরবঙ্গ অঞ্চল
উত্তরবঙ্গ থেকে শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার দৌড়ে প্রাথমিক তালিকায় আছেন- কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিব, প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-সম্পাদক আল মামুন ও সহ-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য এবং উপ-কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু।

বরিশাল অঞ্চল
বরিশাল অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন- কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয়, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, সহ-সম্পাদক খাদেমুল বাশার জয়, কৃষিশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, আপ্যায়ন বিষয়ক উপসম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, উপ-প্রচার সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ, সহ-সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম সোহাগ ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তার।

ফরিদপুর অঞ্চল
ফরিদপুর অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন- বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হুসাঈন শাহাদাত, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজন, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসাইন, সমাজসেবা সম্পাদক রান হামিদ, ছাত্র-বৃত্তি সম্পাদক শেখ সাগর আহমেদ,ঢাবি শাখার সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ শাহরিয়ার কবির, ঢাবি এএফ রহমান হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান এবং কবি জসীম উদ্দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান।

ময়মনসিংহ অঞ্চল
ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবি এম হাবিবুল্লা বিপ্লব।

নারী নেতৃত্বে আলোচনায় যারা
আলোচনায় উঠে আসা নারী ছাত্রলীগ নেত্রীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি চৈতালী হালদার চৈতী, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইশাত কাসফিয়া ইরা, উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার ও রোকেয়া হল শাখার বর্তমান সভাপতি বিএম লিপি আক্তার।

তবে শেষ পর্যন্ত কারা শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে তা জানার জন্য আগামী ১২ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  তবে কী মৃত্যুই থামিয়ে দিল সৌদি যুবরাজকে?

  ৪ জনের ওপর নজরদারির তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

  নিউ ইয়র্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের ছেলে তনয়ের এপার্টমেন্ট নিয়ে তোলপাড়

  অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহক

  ২৩ কেন্দ্রে কোনো ভোট পায়নি জাতীয় পর্টি

  ‘চেক বুক কূটনীতি’র মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ভূমি ও বন্দর দখল করছে চীন

  ঢাকা-মাওয়া চার লেনে ৫৪% ব্যয় বাড়ছে ভুল পরিকল্পনায়

  খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করতে কী পদক্ষেপ নেবে আইনজীবিরা?

  ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র দখল, গণনায় জালভোট বৈধ ঘোষণায় নৌকার বিজয়

  নির্বাচনী বছরে আলোচনায় মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোম

  ‘আমাদের কষ্ট হবে ভেবে ভোটটা ওরাই দিয়ে দিয়েছে’

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?