বুধবার, ২০ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০১ জুন, ২০১৮, ১২:৪১:৩৫

তাঁরা কেন নির্বাসনে?

তাঁরা কেন নির্বাসনে?

ঢাকা: বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে। স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর তিনজোট সর্বসম্মতভাবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে। বাংলাদেশে শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। সাবেক আমলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন। এটাই ছিল শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১৮ বছরে বাংলাদেশ ৬ জন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান পেয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনই মারা গেছেন। প্রথম এবং শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বেঁচে আছেন। কিন্তু বেঁচে থাকলেও এরা দুজনই স্বেচ্ছা নির্বাচনে। এক জন দেশে এবং একজন বিদেশে থাকলেও দুজনই লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন। ৪ জন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান যারা মারা গেছেন, তাঁদের একজন ছাড়া বাকি তিনজনই নানাভাবে বিতর্কিত ছিলেন। দায়িত্ব শেষ করে তারাও অন্তরালের জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচনই ত্রুটিমুক্ত হয়নি। প্রত্যেক নির্বাচন নিয়েই হয় আওয়ামী লীগ না হয় বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে। তবে ৫ জন এই দায়িত্ব শেষে ‘গণশত্রুতে’ পরিণত হন।

৯০ এ এরশাদের পতন হয়। এরশাদের পতনের পর তিনজোট ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন। কিন্তু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শর্ত দেন যে, নির্বাচনের পর আবার তাঁকে স্বপক্ষে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনজোট এই শর্তে রাজি হয়। নির্বাচনের পর সংবিধান সংশোধন করে তাঁকে স্বপদে (প্রধান বিচারপতি পদে) ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপ্রধান করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে সরকারের নানা বিষয়ে মত পার্থক্য হয়। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রত করে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসরে যান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকেই তিনি পর্দার আড়ালে চলে গেছেন। এখন ৮৮ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন আহমেদ কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না। সারাদিন অবসর সময় কাটান।

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হন বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে নির্বাচন করে, তাতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। বিএনপির কাছে ভিলেন হয়ে যান বিচারপতি রহমান। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি শোকবানী পর্যন্ত দেয়নি। তবে দায়িত্ব শেষ করার পরও বিচারপতি এম এইচ রহমান শিল্প ও সাহিত্যে সরব ছিলেন।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হন বিচারপতি লতিফুর রহমান। তিনিও নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের কাছে ‘বেঈমান’ হিসেবে পরিচিত হন। তাঁর মৃত্যুতেও আওয়ামী লীগ কোনো শোক জানায়নি।

২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজেই নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। ইয়াজউদ্দিন সম্ভবত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তাঁর হাতে ধ্বংস হয়েছে বলেই অনেকে মনে করেন। তাঁর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি কেউই শোক জানায়নি।

২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হয়েছিলেন। ২০০৮ এ নির্বাচন শেষে ২০০৯ সালে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করেন। বাঙালিদের তিনি এড়িয়ে চলেন। দেশে আসতেও রাজি নন। বিএনপির কাছে তিনি হলেন গণশত্রু।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কেউই যে সম্মান নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় সেই সম্মান ধরে রাখতে পারেননি।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?