মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮, ০১:৪১:৫৬

বেসরকারি ব্যাংকে সুদ নিয়ে চলছে চালাকি

বেসরকারি ব্যাংকে সুদ নিয়ে চলছে চালাকি

ঢাকা: সরকারের তরফ থেকে নানারকম সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিলেও এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের চালাকি। ব্যাংক মালিকরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ ধার্য করা হয়েছে এবং এটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। অনেক ব্যাংক ফলাও করে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে যে, যথাসময়ে এটি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ ঘোষণা স্রেফ কেতাবি, বাস্তবতা ভিন্ন।

বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক গত ৫ জুলাই থেকে নতুন সুদহার কার্যকর

করেছে। এতে দেখা যায়, ১৯ ধরনের খাতে ঋণের সুদহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮টি খাতে সুদহার কমানো হয়েছে বলে এতে দেখানো হচ্ছে। এর মধ্যে কৃষি ও রপ্তানি ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে আগে থেকেই সুদহার সর্বোচ্চ ৯ ও ৭ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। রপ্তানিমুখী শিল্পের মেয়াদি ঋণের সুদহার সর্বনি¤œ ৯ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ করা হয়েছে। বেশকিছু খাতে আগে থেকেই ৯ থেকে ১২ শতাংশ সুদহার কার্যকর ছিল। অথচ মালিকদের ঘোষণা সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

এদিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের ১১টি খাতের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত খাত ছাড়া মাত্র ৫টি উপখাতে সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পঋণের সাধারণ খাত ও অন্যগুলোয় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি।

এদিকে আইএফআইসি ব্যাংকও নির্ধারিত দুটি খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করেনি। ব্যাংকটি বিভিন্ন খাতে সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে।

ব্র্যাক, সিটি, ডাচ-বাংলা, মার্কেন্টাইলসহ অন্য ব্যাংকগুলোও এভাবেই সুদহার পুনর্নির্ধারণ করেছে। তাদের ঘোষণায়ও রয়েছে একই ধরনের চালাকি। অথচ গত ২০ জুন বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ঘোষণা দেয় সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার।

গত রবিবার ন্যাশনাল ব্যাংকের ডিএমডি এএসএম বুলবুল বলেন, সুদহার কমানো আমরা সমর্থন করি। এতে দেশের শিল্প লাভবান হবে, ব্যাংকের ঝুঁকিও কমবে। কারণ ঋণখেলাপি হয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ অতিরিক্ত সুদহার।

তিনি বলেন, সুদহার কমাতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঐকমত্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু এরও আগে সরকারের আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে সরকারি সংস্থার আমানত স্বল্প সুদে রাখা এবং সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো। ব্যাংকের সুদহার ৬ শতাংশ হলে আর সঞ্চয়পত্রে ১২ শতাংশ পাওয়া গেলে গ্রাহকরা টাকা তুলে সঞ্চয়পত্র কিনবেন।

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ব্যাংকসহ বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের রক্ষিত আমানতের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বাড়ানোর সময় ৬ শতাংশ সুদ প্রস্তাব করলে তারা আমানত তুলে নিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে বেশি সুদে অন্য ব্যাংকে আমানত রেখেছে কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এতে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে একাধিক ব্যাংকার জানিয়েছেন, সুদের হার কমানোর ঘোষণাটি রাজনৈতিক। ব্যাংকাররা এ ঘোষণায় স্বাগত জানালেও তা কার্যকরে সময় লাগবে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা আমানত ধরে রাখা। ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে নেওয়া আমানতের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমানতকারীকে যখন নতুন করে ৬ শতাংশ সুদে আমানত রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে, অধিকাংশ আমানতকারী তখন টাকা উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকের তারল্য সংকট প্রকট হবে; ঋণ বিতরণ সীমা লঙ্ঘিত হয়ে নতুন করে ঋণ বিতরণ সক্ষমতা হারাবে। ঋণ বিতরণ সহজ করার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ বরং ঋণ প্রাপ্তি আরও কঠিন করে দেবে। অনেকেই চাহিদা অনুসারে ঋণ পাবেন না।

হঠাৎ সুদহার কমানোর ঘোষণা দিলে আমানতকারী ব্যাংক ছাড়তে পারে এমন আতঙ্ক রয়েছে ব্যাংকগুলোর মধ্যে। তাই ঘোষণা অনুসারে সুদহার কমায়নি ব্যাংকগুলো। প্রাইম ব্যাংক তিন মাস মেয়াদি আমানতের জন্য ৬ শতাংশ, চার মাস মেয়াদি আমানতের জন্য ৭ দশমিক ৭৫ থেকে ৮ শতাংশ, ছয় মাস মেয়াদিতে সাড়ে ৬ থেকে ৮ শতাংশ এবং ১৩ মাস মেয়াদি আমানতে সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদহার ঘোষণা করেছে। বেসরকারি দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডও ১ জুলাই থেকে ৩ মাস ও ৬ মাস মেয়াদে ৬ শতাংশ, এক বছর মেয়াদে ৭ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদ কার্যকর করেছে।

এদিকে সব ব্যাংক সুদহার কমানোর ঘোষণা দেয়নি। এমন দু-একটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। সভা হলেই সুদহার কমানোর ঘোষণা দেওয়া হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনেক ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। আমরা সুদহার কমাতে চাই। তবে এ জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি। সুদহার কমানোর প্রভাবে সাময়িক ঋণ-আমানত অনুপাতের (এডিআর) সীমা লঙ্ঘিত হতে পারে। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার জন্য বলেছি আমরা।

বিএবি চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার সম্প্রতি বলেন, আমরা সব ব্যাংক মিলে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যত কঠিনই হোক, এটি কার্যকর করা হবে।আস

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?