রবিবার, ১৯ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৫ আগস্ট, ২০১৮, ১১:৪৬:০০

নীতিনির্ধারকদের চার পরামর্শ বিএনপির তৃণমূলের

নীতিনির্ধারকদের চার পরামর্শ বিএনপির তৃণমূলের

ঢাকা: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরণে দলের নীতিনির্ধারকদের চারটি পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দেন তারা। এ ছাড়া সংগঠনকে শক্তিশালীকরণ, জাতীয় ঐক্যের প্লাটফরম তৈরি, পাতানো নির্বাচনে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দলের জেলা ও মহানগরের সুপার ফাইভ নেতাদের দুই দিনব্যাপী মতবিনিময় সভায় তৃণমূল নেতারা এসব পরামর্শ দেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার আগে সংগঠনকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বান জানান তৃণমূল নেতারা। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা নেতারা।

অভিযোগ করেন কেন্দ্রের কারণে অনেক জেলায় জিইয়ে রয়েছে কোন্দল। সম্ভাব্য আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেয়ার জন্য সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন তারা। সেই সঙ্গে অনেকে আন্দোলনকালীন সময়ে ফেসবুক নির্ভর আর নিষ্ক্রিয় নেতাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। মতবিনিময় সভায় তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নোট করে নেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য জেলা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও নির্দেশনা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ ও ফলাফল পর্যালোচনা এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজনের দাবি আদায় ও দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনসহ দলের সার্বিক কর্মপন্থা নির্ধারণে জেলা নেতাদের মতামত নেয়াই ছিল মতবিনিময় সভার মুখ্য কারণ। রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার চারটি ও শনিবার দুই দফায় ৬টি বিভাগের জেলা ও মহানগরের সুপার ফাইভ নেতাদের সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারকদের এ বৈঠক হয়। বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা এবং বিকাল ৩টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের জেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে গত শুক্রবার রাজশাহী ও রংপুর এবং বরিশাল ও খুুলনা বিভাগের জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন সিনিয়র নেতারা। এরমধ্য দিয়ে দলটি দশটি সাংগঠনিক বিভাগের জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, মতবিনিময় সভায় ছয় বিভাগের ৮৭ জন নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অংশ নেন।

বৈঠকে জেলা নেতারা আইনি পদক্ষেপ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না বলে মতপ্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তার মুক্তির জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা কেন্দ্র ঘোষিত কঠোর আন্দোলন লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলমান রাখার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠকে নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ব্যবস্থা দাবি আদায়ের পরই জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা নিতে দলের নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তার মুক্তির মাধ্যমেই যেতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আদায়ের আন্দোলনে। আর এ জন্য সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে দ্রুততম সময়ে। এ সময়ে অনেক নেতা জেলা পর্যায়ের অঙ্গ সংগঠন কমিটি গঠনে তাদের মতামত নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মাঠ নেতারা শীর্ষ নেতাদের খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, আগামী দুই মাস দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিগুলো নিরসন করতে হবে। একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনে গিয়ে সরকারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। সে আন্দোলনে সফল হলে শেষ তিন মাস নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া যাবে। তিনি বলেন, মাঠ নেতারা জোটের শরিক দল জামায়াতের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জামায়াতের ব্যাপারে নতুন করে ভাবার জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু বলেছেন, কেন্দ্রের উদাসীনতায় তার জেলার কমিটি হচ্ছে না দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। প্রয়োজনে তাকে বাদ দিয়ে হলেও নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জানান, বৈঠকে মূলত তারা দলের সাংগঠনিক বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সুপার ফাইভ কমিটি গঠনে বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি বলেছেন, কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব না চাপিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতৃত্ব তৈরি করতে পারলে সংগঠন চাঙ্গা হতো। কুমিল্লা বিভাগের এক নেতা বলেন, গণমাধ্যমে খবর দেখি ৩০০ আসনে বিএনপির ৯০০ প্রার্থী প্রস্তুত। তাহলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তাদেরকে যার যার এলাকায় দায়িত্ব দেয়া হোক। আন্দোলনের কথা শুনলে বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী-এমপি যারা বিদেশে পাড়ি জমান ও নিষ্ক্রিয় থাকেন তাদেরকে পরিহার করতে হবে। ময়মনসিংহ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন চাই। তবে আন্দোলন না করে ফেসবুকে ছবি দিয়ে রাজনীতি করা পরিহার করতে হবে। বৈঠকে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, সিলেট সিটি নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াত বিএনপিকে সহযোগিতা না করে উল্টো নিজেরা প্রার্থী দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেছিলো। কিন্তু সেটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কারণে তা জোটের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না। আগামী আন্দোলন ও নির্বাচনের আগে জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে এক প্লাটফরমে নিয়ে আসতে হবে। তবে অন্য একজন নেতা বলেছেন, যে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করে জামায়াত। তাদের কোনো ভোট বিএনপির প্রার্থী পায় না। জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক থাকতে হবে। সিলেট বিভাগের অন্য এক নেতা বলেন, সার্বিক নির্যাতনের কারণে জামায়াতের সামনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের সুযোগ নেই। তারা কৌশলগত কারণে সিলেট সিটি নির্বাচনে অংশ নিলেও চূড়ান্তভাবে সরকার তাদের পথচ্যুত করতে পারবে না। তবে এর জন্য দরকার বিএনপির সঠিক দিক-নির্দেশনা। এদিকে নেতাদের বক্তব্যের শুরুতে নিজ জেলার জেলা-উপজেলার কমিটির বর্তমান অবস্থা, গ্রুপিং-কোন্দল, নিষ্ক্রিয় নেতাদের অবস্থান, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা, আহত-নিহতদের পরিসংখ্যানসহ সাংগঠনিক চিত্র তুলে ধরেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করার নানা পরামর্শও দেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটকে ‘প্রহসন’ বলেছেন বিএনপি ও বামপন্থিরা। আপনি কি একমত?