বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮, ১২:৫০:২৭

সময় এখন বিএনপির

সময় এখন বিএনপির

ঢাকা: দেশের পরিচ্ছন্ন ব্যাক্তিত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী। দলবাজী-এনজিওবাজী ও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা যখন ব্যাতিব্যস্ত; তখন তিনি জাতীয়তাবাদ-ইসলামী ধারার রাজনীতি নিয়ে গবেষণায় থাকেন রত। বি চৌধুরী ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির’ ডাক দেয়ায় বিকল্প ধারায় যান; যখন বুঝতে পারেন সেখানেও ‘ভেজাল-হিন্দুত্ববাদী দিল্লির প্রতি আপোষকামিতা’ তখন গুডবাই জানান। আয়-রোজগার আর টাকার পিছনে না ছুঁটে নিখাদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ড. ব্যাপারী রাজনীতি নিয়ে ভাবেন। সাধাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত মানুষটির সহকর্মীরা যখন দামী গাড়ী হাঁকেন; তখন তিনি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাবে গিয়ে পিঁয়াজু-ছোলা-মুড়ি খেয়েই খুশি থাকেন। সহকর্মীদের মতো পকেট ভরা টাকা নেই এ জন্য ক্ষেদ নেই; কিন্তু দেশের ‘রাজনীতির সংস্কৃতি’ নিয়ে ক্ষেদ আছে। দিন-রাত দেশের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেন। ‘গবেষণা’ই যেন তার জীবন সঙ্গী। দেশপ্রেমী এই রাষ্ট্রবিজ্হানী বাংলাদেশের ‘আগামীর রাজনীতি’ নিয়ে বলতে গিয়ে জানালেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা। বললেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ‘আগামী ৫০ বছরের রাজনীতির’ বার্তা দিয়েছে। এই দুই আন্দোলনে ৮ বছর থেকে ২৫ বছর বয়সী লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছে। তাদের মিছিলে যে শ্লোগান উচ্চারিত হয়েছে সেটা নিছক কোনো শ্লোগান ছিল না; ছিল আগামীর আহবান। নোবেল জয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে লিখেছেন ‘এই হলো বাংলাদেশ’। সত্যি তাই। শিক্ষার্থীদের ওপর যে জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা-গ্রেফতার, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে-হচ্ছে; এটা কিশোর-কিশোরীদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। এ ঘটনা তারা যুগের পর যুগ ভুলতে পারবে না। কর্মজীবনে প্রভাব ফেলবে। শিশুরা যা শেখে সারাজীবন মনে রাখে। আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ভোটার হয়েছে আবার কেউ আমাগীতে ভোটার হবে। এরাই আগামী ৫০ বছর দেশ নিয়ন্ত্রণ করবে। চাকরি, ব্যবসা, রাজনীতি, আইন পেশা, শিক্ষকতা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সব পেশাতেই এরা থাকবেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, পুলিশ এবং ছাত্রলীগ যৌথভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে; এটা শিশু মনে যে আঘাত পেয়েছে তা এদের মন থেকে মুঁছে যাবে না। ফলে এরা হবে আওয়ামী লীগ বিমুখ। এ জন্য প্রতিপক্ষ বিএনপির জন্য আগামী ৫০ বছর সম্ভাবনার বছর। নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখে বিএনপিকে কর্মসূচি দিতে হবে। আগামীর নির্বাচনী ইসতেহার প্রকাশ করতে হবে। তবেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই তরুণ-তরুণীরা বিএনপির পক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর এই যে গবেষণা-উপলব্ধি তা নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর বাড়তি শক্তি যোগাতে পারে।

সারাদেশের বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর কতগুলো মামলা রয়েছে তার সঠিক হিসেবে নেই। তবে একজন নেতার বিরুদ্ধে একশ থেকে সর্বচ্চো সোয়াশ পর্যন্ত মামলা হয়েছে। তৃর্ণমূলের নেতা থেকে শুরু করে দলের চেয়ারপার্সন-মহাসচিব পর্যন্ত একই অবস্থা। একজনের বিরুদ্ধে এতোগুলো মামলা দায়েরের ঘটনা নজিরবিহীন। পৃথিবীর কোনো দেশে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এমন হাজার হাজার মামলা দেয়ার নজীর নেই। মনে পরে বিএনপির একজন নেতা লালমনির হাট জেলায় একবার ‘আসামী সম্মেলন’ এর আয়োজন করেছিলেন। মনে দলের সবার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এতে বোঝা যায় বিএনপির বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের মনোভাব কী। ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, সারাদেশের ১২ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার মামলা রয়েছে। বিএনপির এই নেতার তথ্য হলো ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারির ২২ তারিখের মধ্যে এই মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯৪৭ জন নেতা-কর্মী কারাগারে। এমনকি বিএনপির চেয়ারপার্সন দীর্ঘ ৬ মাস ধরে কারাগারে। জাতিসংঘসহ গোটা বিশ্বের দৃষ্টি বেগম জিয়ার ওপর।

মিটিং মিছিল দূরের কথা রাস্তায় নামলেই পিঠুনি, জেল জুলুম। এই যখন বিএনপির অবস্থা তখন দলটির অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন বৈকি। দলটি খÐ বিখÐ করার চেষ্টা হয়েছে বার বার। কিন্তু মাটি কামড়ে ধরে নেতারা বেগম জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছেন। এজন্য জেলজুলুম কম পোহাতে হয়নি। নেতাদের আদালতের বরান্দায় নিত্য দৌঁড়ঝাপ করেই দলটি টিকে রয়েছে। কয়েক বছরে দেশের প্রায় ৪০টি জেলা সফর করেছি পেশাগত কারণে। গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেছি। হাট বাজার-গঞ্জ, নদীর ঘাটে আড্ডা দিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি; তাদের মনোভাব জানার-বোঝার চেস্টা করেছি। যেখানে গেছি সেখানেই দেখেছি প্রতিকূল পরিবেশ তথা হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে দলটির নেতাকর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার কৌশল করছেন। টিকে থাকার জন্য কেউ কেউ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলেন; কেউ বা নিষ্ক্রীয়। সাধারণ মানুষ যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মাদরাসা, স্কুল কলেজের শিক্ষক, সমাজপতি, হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, রিক্সা চালক, বাসের ড্রাইভার, নৌকার মাঝি, গৃহিনী, বিভিন্ন পেশাজীবী সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কথা বলে মনে হয়েছে মানুষ যেন অর্ধশত বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন। ওই সময় নির্বাচনে যেমন একটি দলের প্রতি আমজনতা ঝুকেছিলেন; এবার তেমনি বিএনপির প্রতি মানুষ ঝুকে পড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রশ্ন হলো এখনো কী বিএনপির নেতারা আগের মতো ঘুমিয়ে থাকবেন, না ঘুরে দাঁড়াবেন? দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘আমি মেজর জিয়া বলছি---’ ঘোষণা ৭ কোটি মানুষকে জেগে উঠেছিল; মুক্তিযোদ্ধারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

বিএনপি বিপ্লবী দলও নয়; আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামও নয়। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলটি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি চর্চায়ও অভ্যস্ত। কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে নিকট অতীত ক্ষমতাই শুধু নয়; রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নূরুল আমিন ব্যাপারীর গবেষণায় আগামী ৫০ বছর মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের জন্য অন্ধকার হলে বিএনপির জন্য অবশ্যই আলোকিত! সেই চিন্তা মাথায় রেখেও অগ্রসহ হওয়ার প্লান পরিকল্পনা কী করছে? কিশোর-কিশোরী, তরুণরাই হবে আগামীর বাংলাদেশ। বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছে। এটা অবশ্যই ভাল। কিন্তু জাতীয়তাবাদ, ইসলামী মূল্যবোধ ইস্যুতে ভোটের রাজনীতিতে দলটি আর কী কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে? জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্রই হলো কর্মকৌশলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থগুলোতে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেয়া। নতজানু মানসিকতাসহ জাতীয় ইস্যুগুলোতে নীরবতা এবং উল্টো দিল্লী তোয়াজ নীতি কেন? প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবসার করে ‘ভোট সংরক্ষণের মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করছে। সংখ্যালঘুদের ভোট নিশ্চিত করতে তারা তাদের সর্বাগ্রে সুবিধা দিচ্ছে। প্রশাসনসহ সর্বত্র সংখ্যালঘুদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভোট ব্যাংক রক্ষার জন্য। পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ মিশন প্রকল্প এবং রাজনৈতিক আচরণের মাধ্যমে ইসলামী মনোভাবাপন্ন ভোটারদের নৌকায় তোলার চেষ্টা করছে। বিএনপি? জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীরা সবাই বিএনপিকে ভোট দিতে অভ্যস্ত। বিশেষ করে আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, পীর-মাশায়েখরা বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বিএনপি কী কিছু ভাবছে? যেভাবে দলের ওপর দিয়ে সুনামী বয়ে গেছে তাতে সারাদেশের মানুষ বিএনপির প্রতি সহানুভুতিশীল। আবার নতুন প্রজন্মও প্রতিপক্ষ্যের প্রতি বিক্ষুব্ধ। অতএব সময় এখন বিএনপির। এক বছর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপিকে ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সত্যিই কী বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠে বলবে ‘জাগো বাহে কুনঠে সবাই’।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?