বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮, ০৭:৪১:৪২

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় বিনোদন কেন্দ্র ‘স্বপ্নপুরী’

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় বিনোদন কেন্দ্র ‘স্বপ্নপুরী’

দিনাজপুর : উত্তর বঙ্গের বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী।  দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। বাড়ছে দেশি বিদেশি পর্যটকদের ভিড়।

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জ উপজেলার আবতাবগঞ্জে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মনোরম পরিবেশে নান্দনিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক বিনোদন জগত এই স্বপ্নপুরী। সম্পন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। স্বপ্নপুরী নামের মধ্যে এক নান্দনিকতা থাকায় এর পরিচিতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে।

জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ হাটের স্বত্বাধিকারী প্রয়াত ডা. আফতাফ উদ্দীনের দুই ছেলে ৯ নং কুচদহ ইউপি’র সপ্তমবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ও প্রয়াত এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু নিজ উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১শ একর জমির ওপর স্বপ্নপুরীর শুরু করেন। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে এর কার্যক্রম।  মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুর ছেলে বর্তমানে দিনাজপুর ৬ আসনের জাতীয় এমপি মো: শিবলি সাদিকের অধীনে এটি চালু আছে।

নামের সঙ্গে মিল রেখে সৌন্দর্য পিপাসী ও ভ্রমণ বিলাসীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট স্বপপুরী। দর্শনার্থীদের  স্বাগত জানাতে এর প্রবেশ দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে প্রস্তর নির্মিত ধবধবে সাদা ডানা মেলে থাকা দুটি সুবিশাল পরী।  কিছুদূর যেতেই ত্রিভুজ আকারের পুকুর, ১টি বিশাল মানব মূর্তির যাদুঘর, ১টি প্রাণী চিড়িয়াখানা, ১টি যাদুঘর, রয়েছে কৃর্তিম পশুর দুনিয়া। পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৪০/৫০টি অভিজাত রেস্ট হাউজ। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি  প্রতিবছর স্বপ্নপূরীতে পরিবর্তন এবং নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়।

এখানে রয়েছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন পশু পাখীর অবিকল ভাস্কর্য, কৃত্রিম পাহাড়, কৃত্রিম ঝর্ণা, কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম এবং বিশাল লেক। আছে বাংলাদেশের সুবিশাল মানচিত্র, চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, দীঘিতে স্পিডবোট, ক্যাবল কার,ইলেকট্রিক দোলনা, নাগরদোলা।

বিভিন্ন রাইডস, চিড়িয়াখানা, রেস্ট হাউজ, বাগান, হ্রদ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ , 'রংধনু' আর্ট গ্যালারি, 'মহা মায়া ইন্দ্রজাল' নামে জাদুর গ্যালারি এবং  পিকনিকের জন্য রয়েছে মনোরম পরিবেশের জায়গা। ভিআইপি রেস্ট হাউস ১০টি, মধ্যম শ্রেণীর ১৪টি এবং অন্যান্য ৮টি রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে আরও রেস্ট হাউস নির্মাণসহ স্বপ্নপুরীর উন্নয়ন কাজ চলছে। কেবলকার, ঘোড়গাড়ি, চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম মৎস্য জগত,রেস্টুরেন্ট আছে। এখানে কৃত্রিম মাছ এবং বিভিন্ন প্রাণীদের সঙ্গে, বিশ্বকে খুঁজে পেতে পারবেন দর্শনার্থীরা। বিনোদনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট অনেক রাইডস। কৃত্রিম লেকে স্পিডবোর্ডে চড়ে নিতে পারেন দুরন্ত অভিজ্ঞতা। প্রাণীজগতের, এমি, মোরাল, ডাইনোসর, কাব্যপ্রতিভা এবং অনেক অন্যান্য প্রাণীর মতো হুবোহুব কিছু প্রাণীর কৃত্রিম মূর্তিও রয়েছে। ভাস্কর্য এবং চিত্রকলার বিভিন্ন ধরনের 'রংধনু' আর্ট গ্যালারি। পরিবারসহ কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে তার পুরো দিন ভোগ করতে পারবেন। রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় রেস্ট হাউস ও কটেজ।  স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা বিশিষ্ট ফুলের বাগানগুলো সৃষ্টি করেছে স্বাপ্নিক আবহ। এ বিনোদন কেন্দ্রটি উপভো
গ করতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা বয়সের হাজার হাজার বিনোদন পিপাসী ছুটি কাটাতে এখানে আসেন।

দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষও আছে এ বাগানে। আকর্ষণীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করে এখানে অনেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। ‘‘রেলগাড়ি ঝমঝম পা পিছলে আলুর দম’’ এ এলাকায় রেল যোগাযোগ না থাকলেও বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে রেল লাইন। এই লাইন দিয়েই চলে বিনোদন রেল গাড়ীটা। নাই মাস্টার, নাই স্টেশন তবুও যাত্রীরা রেলগাড়িতে একটু আনন্দ পাবার আশায় উঠছেন। পুকুরকে সমুদ্র মনে করে ওরা  স্টিমারে উঠে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করছেন অনেকে।

বাস্তবে সাত সাগর তেরো নদী পারী না দিতেই পারলেও ওরা ময়ূর পঙ্খিতে উঠে পুকুরে পাড়ি দিচ্ছেন। জমিদার সাজে কেউ ঘোড়ার গাড়ীতে উঠছে। কেউ বা পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় উঠে যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতি নেওয়ার ভঙ্গিমা করছে। কেউ বাহারাম বাদশা, কেউ সিরাজ-উদ-দৌলা হয়ে হাতে রজনীগন্ধা নিয়ে আলেয়ার সন্ধানে ঘুরেই চলছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, একাত্তরের বীর সেনাদের প্রকৃতিও রাস্তার মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে।

অজগর, বাঘ, সিংহ, হাতি, জেব্রা, পেগুইন পাখি ইত্যাদি প্রতিকৃতি পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ঝরনা না থাকলওে চালু করা হয়েছে স্যালো চালতি ঝরনা। সম্প্রতি মৎস্য জগত নামে আরো একটি নতুন ভুবন চালু হয়েছে। দেশের প্রখ্যাত জল মানব নওশাদ দীর্ঘদিন স্বপ্নপুরীতে কাজ করে তার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এখানে বেড়াতে আসা উৎসুক জনতার  অনেকেই পুকুরে গোসল করে স্বস্তি পাচ্ছেন । এখানে প্রতিদিন শত শত বাস, মাইক্রোবাস,মটর সাইকেল, রিক্সা, ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ দর্শনার্থী প্রতিদিন সমবেত হয়।

স্বপ্নপুরীর ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, দেশের শীর্ষ রাজনীতবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সরকারি উচ্চপদস্থ র্কমর্কতাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কাজের অবসরে দেখতে আসেন স্বপ্নপুরীর এই অপরূপ দৃশ্য। এ পর্যন্ত ৪০/৫০টি পূর্নদৈর্ঘ বাংলা ছায়াছবির বহু দৃশ্য এখানে চিত্রায়িত হয়েছে।

স্বপ্নপুরীর সত্ত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন জানান, নিজ উদ্যোগে নির্মিত এই বিনোদন কেন্দ্রে তিনি এলাকার শতাধিক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এর পরিধি এটি আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি জাতিসংঘে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত - ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?